জমির মালিকরা জানান, লক্ষ্মীপুর থেকে ইট যাচ্ছে পাশের জেলা চাঁদপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী এবং চট্টগ্রামে। ব্যাপক চাহিদার কারণে কৃষিভিত্তিক জেলা লক্ষ্মীপুরে বৃদ্ধি পাচ্ছে ইটভাটা। পাশে জমি থাকলে ভেঙে যায় মাঠ, হয় না ফসল। ভাটার মালিকদের কাছে বাধ্য হয়ে জমির মাটি বিক্রি করেন কৃষক।
জানা যায়, ইটভাটা স্থাপনের অনেকগুলো বিধি নিষেধ রয়েছে। বিশেষ কোনো স্থাপনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ক্লিনিক এবং লোকালয় থেকে কমপক্ষে ১ কিলোমিটার দূরে ভাটা স্থাপন করতে হবে। তাছাড়া আবাদি জমিতে কোনো ইটভাটা তৈরি করা যাবে না। কৃষি জমির মাটি ব্যবহার করা যাবে না। এলজিইডির রাস্তা ব্যবহার করা যাবে না। কাঠ পোড়ানো যাবে না। কিন্ত এর কিছুই মানছে না ভাটার মালিকরা।
.png)
২০১৬ সালে ৭৫টি ভাটা ছিলো। বর্তমানে সদরে ৬২টি, কমলনগরে ২৮টি, রামগঞ্জে ২৮টি, রামগতিতে ৩৫টি এবং রায়পুরে ৪টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ৭৫টি ছাড়া বাকী সব অনুমোদনহীন।
সদরের তেওয়ারিগঞ্জ ইউনিয়নে মোট ভাটা রয়েছে ২১টি। পুরো ইউনিয়নটি কৃষিভিত্তিক এলাকা। এছাড়া জেলার ভবানীগঞ্জ, মান্দারী, ভোলাকোট, দরবেশপুর এবং চররমিজ ইউনিয়নগুলোতে ইটভাটার ছড়াছড়ি।
সবজি চাষি আবদুল বাতেন জানান, তার ক্ষেতের পাশে ইটভাটা। রাতদিন সেখানে পুড়ছে ইট, উড়ছে ধোঁয়া, আর গ্রামের প্রতিটি কাঁচাপাকা সড়কে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাটিবাহী ট্রাক্টর গাড়ির ভয়ংকর শব্দ। ইটভাটার ধূলোবালি এবং গাড়ির অত্যাচারে গ্রামবাসী অসহায়।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবীবা মীরা বলেন, রামগঞ্জে ২০টি ইটভাটা রয়েছে। কেউই আইন মেনে চলে না। এর মধ্যে ৭টি ইটভাটায় অভিযান চালানো হয়েছে। যেসব ইটভাটায় কাগজপত্র নেই তারা নিজেরাই বন্ধ করেছে। যাদের কিছু ত্রুটি আছে তাদের প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছে,তারা সঠিকভাবে আইন মেনে ইটভাটা পরিচালনা করবেন। অনথ্যায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুচিত্র রঞ্জন দাস বলেন, কমলনগরে ১৮টি ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে কোনো ইটভাটা অনিয়ম করলে কিংবা তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি।
জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম পাটোয়ারী বলেন, গ্রামীণ সড়কগুলো ইটভাটার কারণে টেকানো যাচ্ছে না। অথচ স্থানীয় সরকার বিভাগের কোনো সড়কের পাশে ইটভাটা স্থাপনের নিয়ম নেই। তবে এসব বিষয় দেখবে পরিবেশ বিভাগ।
জেলা পরিবেশ উপপরিচালক হারুন অর রশিদ বলেন, লক্ষ্মীপুরের ইটভাটা মালিকদের বেশ সমস্যা রয়েছে। বিশেষ অভিযান চালিয়ে অবৈধ ইটভাটা গুড়িয়ে দেওয়ার পরেও আবার সেটি তোলা হয়। তাদের কোনো ভাবেই দমানো যাচ্ছে না। তবে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে সেগুলো বিনষ্ট করা হবে বলে জানান তিনি।