শহরের প্রতিটি শো-রুম ঢেলে সাজানো হয়েছে ইলেকট্রিক নানা সামগ্রীতে। ছোট বড় কিংবা মাঝারি কোনো পণ্যের যেন কমতি নেই। এই সব প্রস্তুতি কোরবানির ঈদকে ঘিরে।
রোজিনা ও কামাল দম্পতি। শহরের একটি অভিজাত ইলেকট্রিক শপ থেকে কিনেছেন ফ্রিজ, প্রেসার কুকারসহ ইলেকট্রনিক নানা পণ্য। প্রয়োজনের তাগিদে এসব পণ্য কিনছেন বলে জানান এই দম্পতি।
.png)
ঈদকে সামনে রেখে রান্না ঘর নতুন করে সাজাতে এনজিওকর্মী মমতাজ জাহানও কিনেছেন গৃহস্থলীর নানা সামগ্রী। দ্রুত রান্নায় ইলেকট্রিক সামগ্রিক প্রতিই তার ভরসা।
প্রতি বছর কোরবানি ঈদকে ঘিরে ইলেকট্রিক পণ্যের বড় একটি বাজার তৈরি হয়। এ বছরেও পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। তবে বাজার সবচেয়ে বেশি দখল করে রেখেছে ফ্রিজ। ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকার উপরে রয়েছে ফ্রিজ। ক্রেতারা দেখে-শুনে বেছে নিচ্ছেন পছন্দের ফ্রিজ। তবে সবারই দাবি দাম একটু বেশি।
জেলার প্রায় শতাধিক শো-রুমে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে ফ্রিজের। কোম্পানিগুলো কয়েক মাস আগে থেকেই সরবরাহ করায় কোনো সংকট নেই। এরই মধ্যে বেচা বিক্রিও শুরু হয়েছে। তবে পুরোপুরি বিক্রি হতে আরো কয়েকদিন সময় লাগবে বলে জানান বিক্রেতারা।
এদিকে, বরাবরের মতো ঈদকে ঘিরে কোম্পানিগুলো এবারও দিয়েছে নানা রকম অফার। ক্রেতাদের টানতে ডিসকাউন্ট, ক্যাশব্যাকসহ ফ্রিজ কিনলে নতুন গাড়ি ফ্রি মতো আকর্ষণীয় অফার ছেড়েছে বাজারে।
বিক্রেতারা বলছেন, ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখেই বিভিন্ন ডিজাইন ও আধুনিক সামগ্রী বাজারে আনা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এ ঈদে বিক্রয় হবে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ইলেকট্রিক পণ্য।
পাহাড় ও হাওর বিস্তৃত এ জেলায় দিনদিন বাড়ছে ইলেকট্রিক পণ্যের চাহিদা। সারা বছর বেচাবিক্রি হলেও অফার আর বাড়তি সুবিধার জন্য এখানকার মানুষ ঈদের অপেক্ষায় থাকে। এ সময় চাহিদা যেমন বাড়ে তেমনি বিক্রিও বাড়ে কয়েকগুণ। জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় তিন শতাধিক ইলেকট্রিক পণ্যের দোকান রয়েছে।
জেলার মিনিস্টার কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি সুমন সরকার ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ইলেকট্রিক পণ্যের ব্যবসা করেন তারা অপেক্ষায় থাকেন কোরবানির ঈদের। কারণ এই ঈদেই ফ্রিজ সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। তাই বড় একটি টার্গেট থাকে কোরবানির ঈদকে ঘিরে। আমাদের শীতের মাঝে যে বিক্রির একটা কমতি থাকে তা ঈদে উঠে আসে। এই ঈদেও আমাদের বড় একটি আশা আছে। বিভিন্ন আকার ও রঙের ফ্রিজ আমাদের শো-রুমে রয়েছে। ক্রেতার পছন্দকেই আমরা সর্বচ্চো গুরুত্ব দিচ্ছি।
জেলার ওয়ালটন ব্রাঞ্চ ইনচার্জ গোলাম মোরশেদ শাহিন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ওয়ালটন কোরবানির ঈদকে গ্রাহক ও মার্কেটের চাহিদা মাথা রেখে বাজারে পণ্য আনে। এই বছরও আমাদের নতুন অনেক পণ্য বাজারে এসেছে। ক্রেতাদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি ফ্রিজ। আমাদের জেলা শহরের দুটি শো-রুমের প্রত্যেকটিতে ছোট থেকে বড় সব প্রকার ফ্রিজ পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।
নেত্রকোণা চেম্বার অফ কমার্সের সাধারণ সম্পাদক এইচ আর খান পাঠান সাখি বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে ও ক্রেতাদের সব প্রকার সুবিধা নিশ্চিন্তে বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। এ জেলায় বিভিন্ন কোম্পানির শো-রুম রয়েছে। কোম্পানিগুলো নির্দিষ্ট একটি দামে ধরে তাদের পণ্য বিক্রি করছে। আমরা ধারণা করছি- এই ঈদে কোম্পানিগুলোর তাদের টার্গেট পূরণ করবে।
তিনি আরো বলেন, এই ঈদে ১০-১৫ কোটি টাকা ব্যবসায় হবে বলে আমরা মনে করছি। তাই ব্যবসায়ীদের কাছে অনুরোধ ক্রেতারা যেন কোনোভাবেই প্রতারিত না হয় সেদিকে যেন সবাই লক্ষ্য রাখে।