চিনিকলের বিষাক্ত রাসায়নিক নদীতে, ভেসে উঠছে মাছ
দু’দিন হতে চললেও পুরোপুরি নেভেনি চট্টগ্রামের সেই চিনিকলের গুদামের আগুন। এরই মধ্যে গুদামের অপরিশোধিত চিনি আগুনে পুড়ে গলে পরিণত হওয়া বিষাক্ত রাসায়নিক গড়িয়ে পাশের কর্ণফুলী নদীতে পড়ছে দু’দিন ধরে। ফলে লাল রঙ ধারণ করেছে নদীর পানি, ভেসে উঠছে মাছ।
বুধবার সকালে নদীর বিভিন্ন অংশে ভাসতে দেখা গেছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এর মধ্যে কিছু মরা, কিছু ভেসে উঠছে মৃতপ্রায় অবস্থায়। এসব মাছ ধরতে ভিড় জমান শত শত মানুষ। মূলত বিষাক্ত রাসায়নিক নদীর পানিতে মিশে যাওয়ায় মারা যাচ্ছে মাছ- বলছেন গবেষকরা।
নদীতে মাছ ধরতে আসা স্থানীয় মোহাম্মদ করিম বলেন, মঙ্গলবার রাত থেকে বিভিন্ন মাছ ভাসতে দেখা যাচ্ছে। আগে কখনো এমন হয়নি। পানির রঙও লাল হয়ে গেছে। চিনির বিষাক্ত রাসায়নিক নদীতে পড়ায় হয়তো এমনটি হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, নদীর পানি বিষাক্ত হওয়ায় মাছ মারা যাচ্ছে। এ বিষাক্ত পানি যতদূর যাবে ততদূর পর্যন্ত নদী দূষিত হবে। তবে ড্রেনেজটা অন্যদিকে প্রবাহিত করতে পারলে ভালো হতো।
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র বলেন, বিষয়টি আমরা জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। আশা করছি, জোয়ার-ভাটা হলে এটি কমে যাবে। তবে দীর্ঘস্থায়ী হলে বিষয়টি আরো খারাপ হবে।
এর আগে, গত সোমবার বিকেল ৪টার দিকে কর্ণফুলীতে অবস্থিত এস আলমের চিনিকলের গুদামটিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট কাজ শুরু করে। পরে আগুনের ভয়াবহতা বাড়তে থাকলে বাড়ানো হয় ইউনিট সংখ্যা। ঐ রাতেই ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিটের সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয় সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড।
রাত ১১টার দিকে ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন তারা। এরপর রাতভর চলে আগুন নেভানোর কাজ। কিন্তু পরদিন মঙ্গলবারও নেভানো যায়নি আগুন। গুদামে থাকা অপরিশোধিত চিনিগুলো এক ধরনের দাহ্য পদার্থ। সেগুলো এখনো জ্বলছে বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস।