জমে উঠেছে যশোরের নারী উদ্যোক্তা মেলা
জমে উঠেছে যশোরের নারী উদ্যোক্তা ও বইমেলা। মেলায় সকালে ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্যা কম থাকলেও বিকেলে নামে ঢল। অতীতের মতো এবারো দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কুটির শিল্প ও হাতের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের দিকে। বিশেষ করে সাড়া ফেলেছে যশোর কারাগারের বন্দীদের তৈরি কারাপণ্য। এ স্টলে দৃষ্টিনন্দন কুটিরশিল্প, নকশিকাঁথা, গামছা, কাঠ, বাঁশ ও বেতের পণ্যে মুগ্ধ ক্রেতা-দর্শনার্থীরা।
শহরের টাউন হল মাঠে গত ১ মার্চ শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ১০দিন ব্যাপি। মেলায় ৬৯ স্টলের মধ্যে সবার নজর কেড়েছে কারা স্টলটি। কারাপণ্যের স্টলে ঘুরে বাঁশ, বেত, কাঠ, পাট ও কাপড়ের তৈরি বিভিন্ন পণ্য দেখা যায়। বেত ও বাঁশের তৈরি পণ্যের মধ্যে ছিল মোড়া, ফলের ডালা। গামছার প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ রয়েছে।
বড় মোড়া ১৪০০ টাকা, ছোট মোড়া ১৩০০ টাকা, ফুড কভার মানভেদে ২শ থেকে ২৮০ টাকা, বেড ঝাড়ু ১১০ টাকা, তাঁতের গামছা ১৫০ টাকা, ব্যাগ ১১৫-৩১৫ টাকা, আয়রন ব্যাগ ২০০ টাকা এবং হটপট ব্যাগ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা করে।
মেলার স্টলের দায়িত্বে থাকা কারারক্ষী রাজিয়া ও ইমদাদ জানান, মেলায় ক্রেতাদের মধ্যে আমাদের জিনিসপত্রের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। বিক্রিও হচ্ছে ভালো।
মেলায় আসা আরাফত আহমদ নামে একজন জানান, কারাগারের স্টলে থাকা জিনিসপত্রগুলোর মান বেশ ভালো। যে কারণে কয়েকটি কিনেছি।
যশোর কারাগারে বন্দী শাহানা বেগম ও আসমা জাহান জানান, আমরা কারাগারের মধ্যে অবসর সময়ে নকশিকাঁথা তৈরি করে থাকি। যা বাজারে ভালো চাহিদা রয়েছে।
রবিউল ইসলাম নামে অপরজন বন্দী জানান, তারা মোড়া-চেয়ার তৈরি করছেন। এসব বানানোর জন্য আমাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২০ মাসে মোট ৮ লাখ ৩০ হাজার ৬৩১ টাকার মালামাল বিক্রি করেছে যশোর কারা কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪১৫ টাকা। জুলাই মাসে বিক্রি হয়েছে ২৬ হাজার ৭১০ টাকা, আগস্টে ২৫ হাজার ২৪০ টাকা, সেপ্টেম্বর মাসে ২৭ হাজার ৭৩০ টাকা, অক্টোবরে ৩১ হাজার ৪৫০ টাকা, নভেম্বর মাসে ৩৩ হাজার ৫৭০ টাকা, ডিসেম্বরে ৪১ হাজার ৪শ টাকা, জানুয়ারিতে ১৮ হাজার ১৪৫ টাকা এবং ফেব্রুয়ারি মাসে বিক্রি হয়েছে ৩৮ হাজার ২৭০ টাকা।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার শরিফুল আলম জানান, সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের হাতে তৈরি কাজের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে। এসব পণ্য ঢাকার বাণিজ্য মেলাসহ অন্যান্য মেলায় প্রদর্শন করা হয়ে থাকে। বন্দীদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে বিক্রি করে ৫০ শতাংশ টাকা বন্দীদের ও তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।