জানা গেছে, এলাকার মানুষ যুদ্ধ করে বাঁচে বন্যা খড়ার সঙ্গে। প্রতিনিয়ত যুদ্ধ তাদের। হাঁটতে গেলেও উঁচু নিচু আলপথ। শহর থেকে বিচ্ছিন্ন চরটির মানুষরা বছরের পর বছর একটি সড়কের জন্য অপেক্ষা করেও পায়নি। তাই দেড় কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ শুরু করে দিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তা নির্মাণে কমিটি করা হয়েছে। কমিটি থেকে উপ-কমিটি করে বিভিন্ন কাজে নির্দিষ্ট করে লোকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
.png)
স্থানীয় আব্দুল মান্নান জানান, এলাকায় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ বাস করেন। এসব লোকের যাতায়াতের জন্য কোনো রাস্তা নেই। গ্রীষ্মকালে আলপথে হাঁটা গেলেও বর্ষা মৌসুমে কষ্টের সীমা থাকে না। বহুদিন জনপ্রতিনিধির কাছে গিয়েছি তবে কোনো কাজ হয়নি। সবাই বলে ওপরে জানানো হয়েছে। কাজ আর হয় না। পরে গ্রামবাসী কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলী বলেন, রোগ হলে হাসপাতাল নেয়ার বুদ্ধি নাই। বস্তার মতো মানুষক ঘাড়ে নিয়ে যেতে হয়। ছেলেমেয়েরা নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না। বৃষ্টি আসলে রাস্তা বন্ধ। সবাই খালি কথা দেন কিন্তু রাস্তা আর দেন না। কষ্ট হলেও রাস্তা হলে সুখ মিলবে।
সড়ক নির্মাণ কমিটির কোষাধ্যক্ষ আব্দুল খালেক জানান, গ্রামের সবাই টাকা দিচ্ছেন। দুই হাজার থেকে শুরু করে ২০ হাজার পর্যন্ত দিয়েছে। সড়কটি নির্মাণ করতে ৩০ লাখের বেশি টাকা লাগবে। এখনো অনেক টাকা বাকি। দেখা যাক। কিন্তু বৃষ্টি শুরুর আগে করতে না পারলে ক্ষতি হবে।
সংশ্লিষ্ট বল্লভের খাস ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে ছোট ছোট বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে বরাদ্দ দিয়ে এতোবড় রাস্তা করা সম্ভব নয়। সবাইকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে একত্রিত হয়ে কাজ করার। আমি ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা করবো। আর্থিক সংকটের কথা জানিয়ে বিভিন্ন দফতরে আবেদন দেওয়ার কথাও জানান কমিটির লোকজন। অনেকে আশ্বাস দিয়েছেন তাদের।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ সহযোগিতা করা আশ্বাস দিয়ে বলেন, এতোবড় সিদ্ধান্তে তাদের সাধুবাদ জানাতে হয়। নিজে পরিদর্শন করার চেষ্টা করবো। সহযোগিতা করারও চেষ্টা থাকবে।