এর আগে, মঙ্গলবার মধ্যরাতে নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার গাড়াউন্দ এলাকা থেকে র্যাব-১৪ তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত শাহিন নালিতাবাড়ী উপজেলার বনকুড়া গ্রামের শামসুল হকের ছেলে।
র্যাব ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৩০ জুন সকালে নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের কাচিমৌ গ্রামের ৬ষ্ঠ শ্রেণিপড়ুয়া এক মাদরাসাছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হন শাহিন মিয়া ও তার সহযোগী হাবি মিয়া (৪০)। পরে তারা ওই মাদরাসা ছাত্রীকে অপহরণ করেন। ওই ঘটনায় ভিকটিমের দাদি বাদী হয়ে নালিতাবাড়ী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই খোকন চন্দ্র সরকার গাজীপুর থেকে আসামি শাহিনকে আটক ও ভিকটিমকে উদ্ধার করেন।
.png)
উদ্ধারের পর ভিকটিম মাদরাসাছাত্রী তার জবানবন্দিতে বলেন, আসামি শাহিন গাজীপুরের কোনো এক এলাকায় ভাড়া বাসায় রেখে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত শেষে আসামি শাহিন ও হাবি মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
র্যাব-১৪ জামালপুরের কোম্পানি অধিনায়ক মেজর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি শেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক আখতারুজ্জামান ধর্ষণের দায়ে শাহিনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া ওই মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণের দায়ে মামলার আরেক ধারায় শাহিনকে আরো ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। আসামি শাহিন দীর্ঘ ১০ বছর আত্মগোপনে ছিলেন। এরই প্রেক্ষিতে র্যাব-১৪ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ থানাধীন গাড়াউন্দ এলাকা থেকে পলাতক শাহিন মিয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।