ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

টঙ্গীতে পাঁচদিনের জোড় ইজতেমায় ৪ মুসল্লির মৃত্যু

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:০৭, ২ ডিসেম্বর ২০২৪
টঙ্গীতে পাঁচদিনের জোড় ইজতেমায় ৪ মুসল্লির মৃত্যু
টঙ্গীতে ৫ দিনের জোড় ইজতেমায় মাঠে শামিয়ানা টানিয়ে অবস্থান করছেন কিছু মুসল্লি -ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের টঙ্গী শহরের তুরাগ নদীর তীরে অনুষ্ঠিত ৫ দিনের জোড় ইজতেমায় সোমবার পর্যন্ত চারজন মুসল্লি মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের মধ্যে সিরাজগঞ্জ সদর থানার বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী শহিদুল ইসলাম সম্প্রতি মারা যান। তিনি ইজতেমার চতুর্থ দিনে আমল করতে গিয়ে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন এবং তড়িঘড়ি আশুলিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু ঘটে।

শহিদুল ইসলামের মৃত্যুর পর তার জানাজা ইজতেমা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জানা গেছে, তিনি তার ছেলের মাধ্যমে হাসপাতালে যাওয়ার পথে মারা যান।

এ পর্যন্ত ইজতেমায় মারা যাওয়া মুসল্লিদের তালিকা অনুযায়ী, শহিদুল ইসলামের মৃত্যুর আগে আরও তিন মুসল্লি মৃত্যুবরণ করেছেন। ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানার দুলালী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হাকিম আকন্দ (৭২), রংপুর জেলার কোতোয়ালি থানার বৌরাগীপাড়া গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে হায়দার আলী (৩৫) ও দিনাজপুর সদর থানার মস্তপুর গ্রামের মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে কাউসার আলী (২৮)।

Advertisement

এই চার মুসল্লির মৃত্যুতে ইজতেমা মাঠে উপস্থিত সবার মাঝে শোকাবহ পরিবেশ নিয়ে এসেছে। দীর্ঘ সময়ের এই ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলাকালে শারীরিক অসুস্থতার কারণে কিছু মুসল্লি মৃত্যুবরণ করেছেন, যার কারণে শোক বিরাজমান রয়েছে।

ইজতেমার বয়ান ও কর্মসূচি:
ইজতেমার দিনগুলোতে প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় বয়ান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২ ডিসেম্বর, সোমবার, ভারতের মাওলানা ইসমাইল গোদরা বাদ ফজর বয়ান দেন। এরপর সকাল ১০টায় ভারতের মাওলানা ইব্রাহিম দেওলা উলামাদের উদ্দেশে বিশেষ বয়ান দেন। তার পর বেঙ্গালুরের মাওলানা ফারুক প্রধান প্যান্ডেলে বয়ান করেন। বাদ আসর, পাকিস্তানের ডাক্তার নওশাদ এবং বাদ মাগরিব ভারতের মাওলানা ইব্রাহিম দেওলা বাংলা তরজমাসহ বয়ান করেন।

৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার, ইজতেমার শেষ দিনে বাদ ফজর ভারতের মাওলানা আব্দুর রহমান হেদায়েত বয়ান করবেন। সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে, যেটি পরিচালনা করবেন ভারতের মাওলানা ইব্রাহিম দেওলা।

ইজতেমার প্রস্তুতি ও আয়োজনে প্রশাসনের ভূমিকা:
টঙ্গী ইজতেমা মাঠে ৫ দিনের এই জোড় ইজতেমার আয়োজন শুরু হয় ২৯ নভেম্বর এবং ৩ ডিসেম্বর শেষ হবে। প্রতি বছর এই ইজতেমা মাঠে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি উপস্থিত হন এবং এটি দেশের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সমাবেশগুলির মধ্যে অন্যতম। তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ (শুরায়ী নেজাম) এ বছর ইজতেমা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

এছাড়া, মাঠে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র‌্যাব এবং স্থানীয় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকরা সার্বক্ষণিকভাবে মুসল্লিদের সাহায্য করছেন এবং চিকিৎসা সহায়তার জন্য একটি টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যদিও ইজতেমার দীর্ঘ সময়ের আমল কিছু মুসল্লিকে শারীরিকভাবে অসুস্থ করে ফেলছে, তবুও স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
ট্যাগ: গাজীপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!