ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মিষ্টি কুমড়ায় বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি

নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৪৮, ১৬ মার্চ ২০২৬
মিষ্টি কুমড়ায় বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি
ছবি: সংগৃহীত

উত্তরের কৃষি প্রধান জেলা নীলফামারীতে কৃষকদের নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে নিরাপদ মিষ্টি কুমড়া চাষ। কৃষি বিভাগের বিশেষ প্রণোদনায় স্বল্প সময়ে লাভজনক এই ফসল এখন ছাড়িয়ে যাচ্ছে স্থানীয় বাজারের গন্ডি। পৌঁছাচ্ছে ইতালি, সিঙ্গাপুরসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে। আর এই কুমড়ার ক্ষেত ঘিরে গড়ে উঠেছে মৌচাষ, মিলছে খাঁটি মধু। সমন্বিত এই চাষাবাদে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র।

মাঠে মাঠে সবুজের বুক চিরে হলুদের সমারোহ। দিগন্তজোড়া নিরাপদ মিষ্টি কুমড়ার ক্ষেত যেন সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। উত্তরের জনপদ নীলফামারীর মাটিতে এবার কুমড়ার বাম্পার ফলন ফলেছে। বিশেষ করে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ জমিতে সাথী ফসল হিসেবে আলুর উত্তোলনের পর অলস পড়ে থাকা জমিতেই হচ্ছে কুমড়ার আবাদ। কৃষি বিভাগের কারিগরি সহায়তা ও প্রণোদনায় বাড়ছে চাষের পরিধি। আবার এই কুমড়ার ক্ষেতজুড়ে যুক্ত হয়েছে মৌমাছির চাষ। সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থাপনায় একই জমিতে ফসল ও মৌচাষ করে দ্বিগুণ লাভের মুখ দেখছেন কৃষকেরা।

কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের তৈয়ব আলী, কাশেম আলী ও মহত আলী বলেন, আলু বীজ বোপণের ১০দিন পর সেই জমিতে দেশি ও হাইব্রিড জাতের নিরাপদ মিষ্টি কুমড়ার বীজ রোপণ করা হয়। পর্যাপ্ত সার ও পানির প্রয়োজন হয় না। আলু উত্তোলনের পর অতিরিক্ত লাভজনক ফসল হিসেবে কুমড়া পাওয়া যায়। প্রতিটি কুমড়ার ওজন ৫ কেজি থেকে ৭ কেজি পর্যন্ত ফলে। কৃষি বিভাগের সহায়তায় পোকামাকড় দমনে হলুদ আঠালো ফাঁদ ও ফেরোমন ফাঁদ ক্ষেতে স্থাপন করা হয়েছে।

Advertisement

মধু চাষি মো. শাহানুর ইসলাম জানান, মৌমাছির স্বাভাবিক পরাগায়নে কুমড়ার ফলন বাড়ছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। আলাদা করে কৃত্রিম পরাগমের প্রয়োজন না থাকায় উৎপাদন খরচও কমছে। এতে একদিকে মিলছে রফতানিযোগ্য মানের কুমড়া, অন্যদিকে সংগ্রহ হচ্ছে খাঁটি ও সুস্বাদু মধু।

সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলছেন, মানব দেহের পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ মিষ্টি কুমড়ায় রয়েছে ভিটামিন এ-সি, আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শিশু থেকে বয়স্ক সব বয়সীদের উপকারী।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আকতারুল জামান বলেন, সমন্বিত চাষাবাদের এই সফলতা ধরে রাখতে প্রয়োজন ধারাবাহিক সহায়তা ও বাজার সম্প্রসারণ। তাহলে কৃষকের ঘরে হাসি আরো বাড়বে এমনটাই প্রত্যাশা কৃষি বিভাগের।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনজুর রহমান জানান, মিষ্টি কুমড়ার হলুদ ফুলে মৌমাছির গুঞ্জন যেন সম্ভাবনার সুর। স্বল্প ব্যয়ে অধিক লাভের এই উদ্যোগ বদলে দিচ্ছে উত্তরের কৃষি চিত্র। কুমড়ার মিষ্টতায় আর মধুর সুবাসে সমৃদ্ধ হচ্ছে নীলফামারীর গ্রামীণ অর্থনীতি। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব কুমড়া যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে। রফতানিকারকদের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশে যাচ্ছে উৎপাদিত পণ্য। এতে কৃষকের আয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। জেলায় এবার ৪ হাজার হেক্টর এর বেশি কুমড়া চাষ হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
ট্যাগ: নীলফামারী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!