কনের বাড়ি ভর্তি আত্মীয় স্বজন, আর পাড়া প্রতিবেশী। সাজানো গাড়িতে চলো এলো বরও। কনের বাড়ির লোকজন উৎসাহ নিয়ে বরকে বরণ করেন। এরপর উভয় পক্ষের আত্মীয় স্বজন ও মেহমানদের খাবার দেওয়া হয়। তাদের খাওয়া-দাওয়া শেষে বরকে খদরে খাবার দেওয়া হয়। কিন্তু ওই খদরে খাসি না দেখতে না পেয়ে বিপত্তি ঘটে জুনায়েদ নামে এক জাপান প্রবাসী বরের। শেষ পযর্ন্ত তিনি বিয়ের আসরে না বসে চলে যান।
.png)
গতকাল সোমবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বর জুনায়েদ কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। মুহুর্তের মধ্যে এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামের শফিক মিয়ার কন্যার সাথে কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে জাপান প্রবাসী জুনায়েদের বিয়ে ঠিক হয়। গতকাল সোমবার বিয়ের দিন হওয়ায় কনের বাড়ির লোকজন ব্যাপক আয়োজন করে। বিয়েকে কেন্দ্র করে কনের বাড়িতে তার আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীরা আসেন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা উপলক্ষে বর জুনায়েদ কনের বাড়িতে পৌঁছালে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এ সময় ফুল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি উপস্থিত লোকজনের সামনে বিরূপ মন্তব্য করেন। পরে ফুল ও গেটের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বরকে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। একপর্যায়ে আত্মীয়-স্বজনদের খাওয়া-দাওয়া শেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বরকে খদরে খাবার দেওয়া হয়। এ সময় খদরে খাসি না থাকায় বর জুনায়েদ আপত্তি জানান। তিনি খাসি ছাড়া খাবেন না এবং খাসি না দিলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও করবেন না বলে জানান।
এ সময় কনেপক্ষের আত্মীয়-স্বজনসহ উপস্থিত অনেকেই বরকে বুঝানোর চেষ্টা করেন। তবে তিনি সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই একা কনের বাড়ি থেকে চলে যান জাপান প্রবাসী জুনায়েদ।
কনের বাবা শফিক মিয়া বলেন, আমাকে আগে জানানো হলে খদরে খাসির ব্যবস্থা করতাম। এ বিষয়ে আমাকে আগে কিছুই বলা হয়নি। এরপরও আত্মীয়-স্বজনসহ সবাই বরকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু সে কোনোভাবেই রাজি হননি। বিয়ের আনুষ্ঠাকিতার শেষ পর্যায়ে এসে এমন হবে তা কখনো ভাবতে পারেনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়া বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। কোনো বাবা-মা চান না মেয়ের বিয়েতে এমন ঘটনা ঘটুক। তবে ছেলেটির কথাবার্তা কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। খাসির বিষয়টি আসার পর তাকে অনেকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি খাসি ছাড়া বিয়ে করতে রাজি হননি।