স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোগড়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসা এই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা ও জনবল সংকটে কেন্দ্রটির সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
জানা যায়, প্রায় পাঁচ দশক আগে মোগড়া ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটির কার্যক্রম শুরু হয়। এখানে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সাকমো), একজন মিডওয়াইফ, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন অফিস সহায়ক থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে একজন মিডওয়াইফ ও একজন অফিস সহায়ক দিয়ে চলছে কেন্দ্রটির কার্যক্রম। কোনো চিকিৎসক বা চিকিৎসা সহকারী না থাকায় রোগীদের মূলত রোগের কথা শুনে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। এরপরও প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে এখানে আসেন।
.png)
আখাউড়া-ধরখার সড়কের গঙ্গাসাগর রেলগেটসংলগ্ন একতলা ভবনে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটির অবস্থান।
সরেজমিনে যা দেখা গেল
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভবনটি বহু পুরোনো ও জরাজীর্ণ। দেয়ালের বিভিন্ন অংশ ক্ষয়ে গেছে। সামনের কক্ষটি ছাড়া অন্য কক্ষগুলোর অবস্থা নাজুক। অন্ধকার কক্ষগুলো অনেকটা পরিত্যক্ত ঘরের মতো। ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। দরজা-জানালার বেশির ভাগই ভাঙা। কক্ষের ভেতরে যত্রতত্র পড়ে আছে বিভিন্ন জিনিসপত্র। চুরি ঠেকাতে কয়েকটি জানালা ইট দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
সামনের একটি কক্ষেই কোনো রকমে দায়িত্ব পালন করছেন মিডওয়াইফ ও অফিস সহায়ক। এক-দুজন করে রোগী সেখানে ঢুকছেন। রোগীদের নাম খাতায় লেখা হচ্ছে এবং চাহিদা অনুযায়ী সম্ভবপর ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। কেউ চিকিৎসাসেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন, আবার কেউ ওষুধ নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন।
চিকিৎসা নিতে আসা দরুইন এলাকার পারুল বেগম বলেন, ‘আমার ছোট মেয়ে তানিয়া আক্তারের (১২) সকালে হঠাৎ জ্বর আসে। তাকে নিয়ে এখানে এসেছি। একজন মহিলা (মিডওয়াইফ) দেখে কিছু ওষুধ দিয়েছেন। এখন আল্লাহর ওপর ভরসা।’
শামসুল হক বলেন, ‘সাধারণ রোগের চিকিৎসার জন্য আমরা এই কেন্দ্রের ওপর নির্ভর করি। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছি না। এ এলাকার মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা দরকার।’
মোগড়া এলাকার আবুল হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনের ভেতরের অবস্থাও অত্যন্ত করুণ। দরজা-জানালার বেশির ভাগই নষ্ট হয়ে গেছে। এখানে চিকিৎসক না থাকায় রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। শুধু কিছু ওষুধ নিয়ে চলে যেতে হয়। এভাবে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র চলতে পারে না।’
মুর্শেদ মিয়া বলেন, ‘অনেক দিন ধরে এখানে শুধু একজন মিডওয়াইফ সেবা দিয়ে আসছেন। চিকিৎসক না থাকায় সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া কঠিন। নির্মাণের পর থেকেই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি অবহেলিত। আগে চিকিৎসক থাকলেও এখন নেই। এ ছাড়া এখানে নিয়মিত চুরিও হচ্ছে। এক কথায়, এখানে সেবা বলতে টুকটাক ওষুধ দেওয়া ছাড়া আর কিছুই নেই।’
মিডওয়াইফের দায়িত্ব পালনকারী সাদিয়া আক্তার বলেন, ‘একজন অফিস সহকারী ও আমি এখানে আছি। রোগীর সমস্যার কথা শুনে ওষুধ দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি। তবে ভবনটি অকেজো হয়ে পড়া এবং একের পর এক চুরির ঘটনায় নানা সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. হিমেল খান বলেন, ‘উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে আপাতত কোনো চিকিৎসক নেই। যে সাকমো আছেন, তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নতুন করে নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।’