আহত অর্পিতা সরকার ঝালকাঠি কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আর পঙ্কজ কান্তি বিশ্বাস ঝালকাঠির মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপক।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. জাবির হাসান দিপু জানান, দুর্ঘটনায় অর্পিতার দুই পা ভেঙে গেছে। এ ছাড়া তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং কান দিয়ে রক্তপাত হচ্ছিল। তাঁর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত ব্যাংক ব্যবস্থাপকেরও পা ও মাথায় আঘাত রয়েছে।
.png)
প্রত্যক্ষদর্শী মোখলেছুর রহমান ও মিঠুন চন্দ্র দাস জানান, বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মহিলা কলেজের সামনে সড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল অর্পিতা। এ সময় পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মোটরসাইকেলটির গতি আনুমানিক ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার ছিল।
ধাক্কার তীব্রতায় অর্পিতা প্রায় পাঁচ ফুট দূরে ছিটকে সড়কের ওপর পড়ে যায়। এরপর মোটরসাইকেলটি তাঁর দুই পায়ের ওপর দিয়ে চলে গিয়ে সামনে থাকা ব্যাংক ব্যবস্থাপক পঙ্কজ কান্তি বিশ্বাসকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনিও গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহত দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়।
ঝালকাঠি কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক সাগর ইসলাম বলেন, ‘যেভাবে মোটরসাইকেলটি আমাদের শিক্ষার্থী অর্পিতাকে ধাক্কা দিয়েছে, সেই দৃশ্য অত্যন্ত মর্মান্তিক। বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানো বন্ধ করতে হবে। এ ধরনের চালকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’
এদিকে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী মোটরসাইকেলচালক শিহাবের বাবা ঝালকাঠি শহরের টিনপট্টি সড়কের ব্যবসায়ী ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘ও আমার ছোট ছেলে। এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। ও কেন যে আমাকে এত বিপদে ফেলল আমার ভাগ্যই খারাপ।’
ঝালকাঠি সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ বশির হাসান বলেন, মোটরসাইকেলটি ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা হয়েছে। তদন্তে শহরের টিনপট্টি সড়কের ব্যবসায়ী ফরিদ আহমেদের ছোট ছেলে শিহাব মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিল বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।