সোনায় বিনিয়োগের এখনই সময়
বিশ্বজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসায়ীরা আছেন লোকসানের ঝুঁকিতে। এজন্য বেশ বুঝেশুনেই বিনিয়োগ করছেন তারা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগের অন্যতম নিরাপদ মাধ্যম হলো সোনা। সোনায় বিনিয়োগ করলে পাওয়া যাবে ৪টি গোপন সুবিধা। একনজরে জেনে নেয়া যাক বিস্তারিত-
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ সম্পদ সোনা
বিশ্বের বহু দেশ এবং সরকারি সংস্থা রিজার্ভ সম্পদ হিসেবে সোনা ব্যবহার করে। বিশ্বব্যাপী নিরাপদ আশ্রয় ধাতু হিসেবে পরিচিত এটি। অন্যান্য পণ্য ও মুদ্রার এ আন্তর্জাতিক মর্যাদা নেই। বিশ্ব অর্থনীতির প্রতীক সোনা। গোটা বিশ্বে যার মূল্য রয়েছে। মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়নের সময় এটি দারুণ উপকারী।
ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে সোনা
যুদ্ধ বা বাণিজ্য ব্যাহতের মতো ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি নানা ধরনের সম্পদের ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে তেলের দাম এবং কাগজের মুদ্রার মান ব্যাপক কমে যেতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রেও সোনার বাজারদর চড়া থাকে।
মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক লড়াই করে মূল্যবান ধাতুটি। পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির বিপক্ষেও শক্তিশালী অবস্থান নেয়। বৈশ্বিক সংঘাতকালে প্রধান আন্তর্জাতিক মুদ্রা ডলারের মূল্যমান নিম্নমুখী হতে পারে। তাতে সোনার দাম বেড়ে যায়। ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে ধাতুটি।
সোনাপ্রতিরক্ষামূলক দাফতরিক কৌশল শক্তিশালী করে
অর্থনৈতিক দুঃসময়ে এবং ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকিতে বিভিন্ন ধরনের সম্পদের মূল্য নিম্নগামী হতে পারে। এ অস্থিরতার মধ্যে ভীষণ কাজে লাগে সোন। আর্থিক মন্দার সময় শেয়ারবাজারে ধস নামতে পারে। বন্ডের দাম কমে যেতে পারে। সেসময় ঢাল হয়ে রক্ষা করে সোনা।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সেলের (ডব্লিউজিসি) এক গবেষণায় দেখা গেছে, অর্থনৈতিক সংকটে ভোগ্যপণ্য ও জ্বালানি খাতেও মন্দা দেখা যেতে পারে। সোনা কাছে থাকলে সেই পরিস্থিতি উতরানো যায়।
সোনা সহজে স্থানান্তর করা যায়
সোনা সহজে বহনযোগ্য। এছাড়া এটি সহজেই স্থানান্তর করা যায়। কোনো মজুত পণ্য ও বন্ড দূর-দূরান্তে বহন করা যায় না। তবে সোনা হাতে নিয়ে যাওয়া যায়। বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, আসবাপত্র সহজে এক জায়গা থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া যায় না। কিন্তু সোনা ঠিকই পারা যায়।
সর্বোপরি, সোনার দাম সবসময় বাড়ে। ঐতিহাসিকভাবে তা গুরুত্ব বহন করে আসছে। এটি সবসময় বিক্রিও করা যায়। ফলে এখনই গুরুত্বপূর্ণ ধাতুটিতে বিনিয়োগ করুন।
সূত্র: সিবিএস নিউজ