ঢাকা,  রোববার   ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ শিক্ষা ]

ভুল বানানে সয়লাব মাভাবিপ্রবির মেডিকেল সেন্টার

শুভ দে, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ১৮:০৫, ২৫ ডিসেম্বর ২০২১
ভুল বানানে সয়লাব মাভাবিপ্রবির মেডিকেল সেন্টার
টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) মেডিকেল সেন্টারের ব্যবহৃত ব্যবস্থাপত্র ও মেডিকেল রিপোর্টের প্যাডে ভুল বানান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন মাভাবিপ্রবির শ

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) মেডিকেল সেন্টারের ব্যবহৃত ব্যবস্থাপত্র ও মেডিকেল রিপোর্টের প্যাডে ভুল বানান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন মাভাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা। 

এ বিষয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রপে নানারকম মন্তব্য করেছেন শিক্ষার্থীরা। অর্থনীতি বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র সুজন চন্দ্র দাস পুলক লিখেছেন, বানানগুলো অসুস্থ, সবার আগে ওদের সুস্থ করা হোক। 

যেহেতু, মেডিকেল সেন্টার বিশ্ববিদ্যালয়েরই অধীনেই এবং মেডিকেল সেন্টারটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, তাই মেডিকেল সেন্টারের ব্যবস্থাপত্র ও মেডিকেল রিপোর্টের বানানগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধানে প্রণিত বানানের আদলেই হওয়া উচিত বলে মনে করেছেন শিক্ষার্থীরা। 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র ও মেডিকেল রিপোর্টের উপরের হেডলাইনের মধ্যেই বানান ভুল। সেই বানান ভুল ব্যবস্থাপত্রেই ওষুধ লিখছেন দায়িত্বরত চিকিৎসকরা। ভুল বানাগুলোর প্রত্যেকটিই ইংরেজিতে। যেমনঃ Santosh লেখা হয়েছে Santhosh,  Mawlana কে লেখা হয়েছে Maulana। 

বানান ভুলের ব্যাপারে জননেতা আব্দুল মান্নান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আদিব রহমান রাহাত বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হচ্ছে মেডিকেল সেন্টার। আমরা প্রাথমিকভাবে অসুস্থবোধ করলেই আগে মেডিকেল সেন্টার থেকে চিকিৎসাপত্র গ্রহণ করি। পরে যদি সুস্থ না হয় তখন কিন্তু উন্নত চিকিৎসার জন্য শহরমুখী ক্লিনিক, হাসপাতালের ধারস্থ হতে হয়। তখন চিকিৎসকরা পূর্ববর্তী চিকিৎসাপত্র ও মেডিকেল রিপোর্ট দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপত্র ও মেডিকেল টেস্ট রিপোর্টে এ ধরনের বানান ভুল লজ্জাজনক। একটা দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল সেন্টারও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই এ ধরনের ভুল মোটেও কাম্য নয়। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. জারিফ আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের দায়িত্বহীনতার বড় উদাহরণ এটি। কোনোভাবেই এসব মেনে নেয়া সম্ভব নয়। আমরা ফেসবুকের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রুপের মাধ্যমে সিনিয়র জুনিয়র এমনকি প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের শিক্ষা জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গঠনমূলক কাজের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে কিন্তু কিছু ছোটো ভুলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মান খুবই কমে যাচ্ছে। মেডিকেল সেন্টারের প্যাডে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম এবং সন্তোষ এর নাম ভুল থাকার জন্য আমাদের নানারকম কথা শুনতে হচ্ছে আর সেই সঙ্গে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখার মান নিয়েও কথা উঠছে। তাই আমি প্রশাসনের কাছে আবেদন করছি অতি গুরুত্বের সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করার জন্য। 

এ বিষয়ে মেডিকেল সেন্টারের উপ-প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. কাওসার আহমাদ এর কাছে বানান ভুলের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, বানান ভুলের ব্যাপারটা আমাদের সকলের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। শিগগিরই ব্যবস্থাপত্রগুলো ও মেডিকেল রিপোর্টের ব্যবস্থাপত্রগুলো পরিবর্তন করবো৷ প্রায় ৫০টার অধিক নতুন ব্যবস্থাপত্র তৈরি করা হয়েছে, যেগুলোর প্রত্যেকটিতে একই ভুল। এই ব্যবস্থাপত্রগুলো বাদ দিয়ে পুনরায় নতুন ব্যবস্থাপত্র তৈরি করাও সময় সাপেক্ষ। ততোদিন তো চিকিৎসা কার্যক্রম চালাতে হবে। বর্তমানে আমরা কলম দিয়ে বানানগুলো ঠিক করে চিকিৎসাপত্র বিতরণ করে চিকিৎসা কার্যক্রম স্বাভাবিক রেখেছি। নতুন চিকিৎসাপত্র আসলেই আমরা সেগুলো ব্যবহার করা শুরু করবো।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!