ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ময়লা আবর্জনা প্রাকৃতিক এবং শিক্ষার মানসম্মত পরিবেশ উভয়ের জন্য হুমকি স্বরূপ। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয় বলে মনে করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এমনকি ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার জন্য পর্যাপ্ত লোকবলও নিয়োগ করেনি প্রশাসন। আবার রিকশাওয়ালা, ভাসমান খাবার দোকানিদের বেশি দায়ী করছেন কেউ কেউ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী রিপন সরকার ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, এত সুন্দর ক্যাম্পাস দিনে দিনে আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে। ক্যাম্পাস এখন পিকনিক স্পটে পরিণত হয়েছে। এ কারণেই ক্যাম্পাস বেশি নোংরা হচ্ছে। কিন্তু এত বড় একটা ক্যাম্পাসে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য কোনো লোকবল নাই, পর্যাপ্ত ডাস্টবিনের ব্যবস্থা নাই। এ বিষয়টা অনেক খারাপ লাগছে।
.png)
ভাষার মাসব্যাপী অভিযান কর্মসূচি চলবে নয়টি ধাপে। প্রথম দিন প্রশাসনিক ভবন এবং কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ প্রাঙ্গণ পরিষ্কার করেছে। দ্বিতীয় ধাপে লাইব্রেরি, আইটি ভবন এবং মুক্তমঞ্চ এলাকা অভিযান পরিচালনা করেন ৬ ফেব্রুয়ারি। পরবর্তী কর্মসূচি আগামীকাল ৯ ফেব্রুয়ারি চলবে স্টেশন এলাকায়। ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় ২৮ ফেব্রুয়ারি উত্তর ক্যাম্পাসে সেন্ট্রাল ফিল্ড, আইআর ইনস্টিটিউট এবং আইন অনুষদ পরিষ্কারের মাধ্যমে শেষ হবে এই কর্মসূচি।
সংগঠনের এম্বাসেডর হেড লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী তাহলিল সাকিফ বলেন, এই ক্যাম্পাস আমাদের। পরিচ্ছন্ন রাখাও আমাদের দায়িত্ব। বাহির থেকে কেউ এসে এখানে কেউ ময়লা ফেলে যাবে না। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য পর্যাপ্ত ডাস্টবিন এবং লোকবল নিয়োগ দরকার।
সংগঠনটির উপদেষ্টা মারুফ ইসলাম বলেন, মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি গ্রহণ করলাম আমরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্তরিকতা পাচ্ছি। আশাকরি আগামী দিনে পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস উপহারে প্রশাসন উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এর আগে আমরা নিজেদের উদ্যোগে ক্যাম্পাসের ঝুপড়িগুলোতে পাঁচ-ছয়টি ডাস্টবিন দিয়েছি। কিন্তু এত বড় এই ক্যাম্পাসে প্রয়োজন প্রায় শ’খানেক ডাস্টবিন। এজন্য প্রশাসনের সহযোগিতা দরকার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এসএম মনিরুল হাসান বলেন, ক্লিন ক্যাম্পাসের এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এধরণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে সবাই সচেতন হবে এবং আবর্জনা বিহীন পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস দেখতে পাব আমরা।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু আমাদের বিশাল ক্যাম্পাস এবং শিক্ষার্থী সংখ্যাও অনেক। সেজন্য ব্যবস্থাপনার আরও উন্নতি দরকার। আমরা সেদিকে নজর দিচ্ছি। এসব ময়লাকে কেবল পুড়িয়ে ফেললেই হবে না। বরং আবর্জনার ‘রিসাইক্লিং’ পদ্ধতি নিয়ে ভাবছি। আবর্জনা নামক সম্পদটি কিভাবে উপযোগীভাবে ব্যবহার করা যায় সেজন্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।