দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থানে যখন ব্যবসার জন্য ফুলের চাষ হচ্ছে তখন ভিন্ন চিত্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। শুধুমাত্র শীত-বসন্তের সৌন্দর্যকে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় লাগানো হয়েছে ফুল। যা শিক্ষার্থীদের মনে শুধু প্রশান্তিই আনেনি, দোলা দিয়েছে হৃদয়ে।

.png)
ক্যাম্পাস ঘুরে আরো দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসনের উদ্যোগে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফুলের বাগান। সিনেট ভবনের পাশে, প্যারিস রোডের পাশে, ভিসি ভবন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ, কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি আবাসিক হলে, বিভিন্ন একাডেমিক ভবনের সামনে ও ভেতরে গড়ে তোলা হয়েছে সুন্দর সুন্দর ফুলের বাগান।
আরো পড়ুন>>> চড়ুই-ভাতির কলাপাতায় ফিরে এলো শৈশবের রোমাঞ্চকর স্মৃতি
ক্যাম্পাসের প্রতিটি জায়গায় শোভা পাচ্ছে হরেক রকমের ফুলে। শুধু নজরকাড়া রঙে নয়, প্রজাপতি ভ্রমর কিংবা মানুষ সুগন্ধি ফুলেরা সবাইকে বিমোহিত করে দারুণ সুভাসে। রঙ আর সুভাসে এমন মন ভুলানো পসরা সাজালে প্রজাপতি কিংবা ভ্রমর তো আসবেই। বর্ণোচ্ছটা সুগন্ধির টানে ফুলে ফুলে উড়ে বেড়াচ্ছে তারা।

শীতের মৃদু বাতাসে গাছে দোল খাচ্ছে ডালিয়া, টিথোনিয়া, ভারবেনা, প্যানজি, ডেন্টাস, পপি, স্টার, চন্দ্রমল্লিকা, সিলভিয়া, ডালিয়া, কসমস, ডায়ান্থাস, ক্যালেন্ডুলা, ফ্লক্স, সেলোসিয়া, সুইশ ফ্লাওয়ার, বিশ্বসুন্দরী, হাড়িলাল গোলাপ, কাশ্মীরি গোলাপ, তাজমহল, ইনকা গাঁদা (কমলা, হলুদ) আরো কত শত ফুল।
এদিকে বসন্ত না আসতেই ক্যাম্পাসের প্রকৃতিতে রক্তিম পলাশ, শিমুল নতুনত্ব এনে দিয়েছে। লাল ফুলগুলো সবুজ ঘাসের উপর পরে যেন লাল-সবুজের অভ্যর্থনা জানাতে ব্যস্ত। রাকসু ভবনের সামনে পলাশ ফুলের ঝরে পড়া পাপড়ি দেখে মনে হয় যেন এক পুষ্পশয্যা।
আরো পড়ুন>>> শীতের অপরূপ সাজে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশের বাগান পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা মালি মাহাবুব আলম বলেন, ক্যাম্পাসে এবার প্রায় ১৫-২০ প্রজাতির ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে। সাধারণত আমরা অক্টোবর-নভেম্বর মাসে এসব ফুল গাছ লাগিয়ে থাকি। কোনো গাছে ফুল আসতে শুরু করেছে আবার কোনোটিতে আসবে।
আরেক মালি আব্দুল মামুন বলেন, ঠিক যেভাবে আমরা আমাদের সন্তানকে ছোট থেকে লালন-পালন করে বড় করি। ঠিক তেমনিভাবে ফুলগাছকেও পরিচর্যা মাধ্যমে বড় করে তুলি। তারপর সেখানে ফুল ফোটে সে আনন্দ বলে প্রকাশ করার মতো না। যখন কেউ ফুলগাছ নষ্ট করে বা ফুল ছিঁড়ে ফেলে তা দেখে খুবই কষ্ট লাগে। ফুল তো গাছেই সুন্দর দেখায়। তাই সবার প্রতি অনুরোধ কেউ ফুল ছিঁড়বেন না।

ফুলের এমন সৌন্দর্যের ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। কেউবা আবার ফুল বাগানে বসে, দাঁড়িয়ে নানা ভঙ্গিতে ছবি তুলছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাজু বলেন, এই সময়ে ক্যাম্পাসে নানা রকমের ফুল ফোটে। একটা একটা ফুলের রঙ, গন্ধ অন্যটা থেকে আলাদা। মেইন গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার সময় মনে হয় ফুলের রাজ্যে প্রবেশ করেছি।
আরো পড়ুন>>> রাবিতে শিক্ষার্থীদের ঘুম ভাঙিয়ে দেয় রঙ-বেরঙের পাখি
নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী স্বর্ণালী আক্তার বলেন, প্রতি বছরই শীতে ফুলের নানান বাহার দেখা যায় ক্যাম্পাসে। এর পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান মালিদের। তারা সুনিপুন হাতে ফুলের বাগানগুলো সাজিয়ে তুলে। কোথায় কোন গাছ, কোন রঙের ফুল লাগালে আকর্ষণ করবে তা তারা ভালোই জাননে। যখন মন খারাপ হয় ক্যাম্পাসে সারিসারি ফুল বাগানের দিকে তাকালেই মন ভালো হয়ে যায়। সারা বছরই এমন রঙিন থাকুক প্রিয় ক্যাম্পাস।