মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ডিআইইউর কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ক্লাব প্রতিবছরের ন্যায় এ ভাষা উৎসবের আয়োজন করে।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এটিএম মাহবুবুর রহমান।
.png)
আরো উপস্থিত ছিলেন কম্পিউটার অ্যান্ড প্রোগ্রামিং ক্লাবের উপদেষ্টা এবং সহকারী অধ্যাপক খন্দকার মহি উদ্দিন, সহকারী অধ্যাপক এবং ডিপার্টমেন্ট অব সিএসসির কো-অর্ডিনেটর মাহবুবুর রহমান, ইইই ডিপার্টমেন্টের সহকারী অধ্যাপক তাফসির আহমেদ
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমাদের মাতৃভাষা বাংলা জয়ী হয়। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা ও শহীদদের বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের বাংলাভাষা। সেই শহীদদের স্মৃতি স্মরণে নির্মিত হয় শহীদ স্তম্ভ কিন্তু তীব্র কষ্টের কথা হলো ৫২ সালের পরে ‘পাকিস্তান সরকার শহীদ স্তম্ভ ভেঙে গুড়িয়ে দেয়!’
তিনি আরো বলেন, তদানিন্তন পাকিস্তান শাসনামলে ৫৬% লোক ছিলো বাংলা ভাষাভাষি। সে দেশে শোষকশ্রেণি চেয়েছিলো উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা বানাতে কিন্তু বাংলার তরুণ ছাত্র সমাজ তাদের এই অগণতান্ত্রিক ও অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্তকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি। আর তখন থেকেই শুরু হয় আমাদের দেশের টগবগে তরুণদের ক্ষীপ্র আন্দোলন। এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি চালিয়ে ছত্র ভঙ্গ করে দেয়।
তিনি বলেন, বাংলা ভাষার চর্চাটা শুরু হয় অনেক আগেই প্রতিষ্ঠিত হয় ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা ও শহীদদের বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে আমরা আমাদের মাতৃভাষা বাংলা পেয়েছি। তাই ভাষার মাসে ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান দিয়ে শুধু ডিআইইউ নয় ‘ভাষা উৎসব’ হোক দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতে করে তরুণ সমাজও বাংলা ভাষা চর্চায় আগ্রহী হয়ে ওঠে!
এ অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন কম্পিউটার অ্যান্ড প্রোগ্রামিং ক্লাব এর সভাপতি রওনক বোরহান হিমেল এবং সাধারণ সম্পাদক লুবানা আযাদ।
প্রসঙ্গত, ভাষা উৎসবে সর্ব প্রথমে সব ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং রুহের মাগফিরাত কামনা করে এক মিনিটের নিরবতা পালিত হয়। ভাষা উৎসব- ২০২২ এ এবার ছিল দুটি ইভেন্ট। ভাষাবিদ কুইজ প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন সিএসই বিভাগের জায়েদ বিন হুদা এবং ২য় হয়েছেন রাজকুমার সরকার। এছাড়া চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন সিএসইর মারজান এবং ২য় হয়েছেন ফার্মেসি বিভাগের সাইমন ইসলাম মারুফ। অনুষ্ঠানের শেষ ভাগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।