প্রায় শতাধিক লিচুর গাছ রয়েছে এখানে। মৌসুমি লিচুকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকে এক অন্যরকম উদ্দীপনা। দলবেঁধে ঘুরে ঘুরে ক্যাম্পাসের গাছ থেকে ফল পেরে খেতে এবং আনন্দ উল্লাস করতে দেখা যায় তাদের। প্রতিবারের মতো এবারো থোকা থোকা লিচুর আগমনে ভরে উঠেছে গাছগুলো। লিচুময় হয়ে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ। যদিও এসব লিচুগুলো ভালোভাবে পাকতে এখনো প্রায় দুই সপ্তাহ সময়ের প্রয়োজন।
সরেজমিন দেখা গেছে, এবারে লিচুর বাগানে পর্যাপ্ত পরিমাণে লিচু ধরেছে। লিচুগুলো আগে পরে বড় হচ্ছে। কোনো কোনো গাছের লিচু এখনো অনেক ছোট। আবার কোনো কোনো গাছে দেখা মিলছে ছোট-বড় লিচুর সংমিশ্রণ। এরই মধ্যে কিছু সংখ্যক লিচু লালচে রঙ ধারণ করেছে। তবে লালচে লিচুগুলো পরিপক্ব হয়নি, খেতেও টক স্বাদযুক্ত।
.png)
অপরিপক্ব এসব লিচু ঘিরেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলছে অসুস্থ প্রতিযোগিতা। এরই মধ্যে অনেক শিক্ষার্থীরা গাছে উঠে লিচু পেড়ে খাচ্ছেন। এসব লিচুর বেশিরভাগই টক হওয়ায় পাড়ার পর খেতে না পেরে ফেলে দিচ্ছেন। আবার তাদের দেখাদেখি অন্য শিক্ষার্থীরাও এতে যোগ দিচ্ছেন। অনেক শিক্ষার্থী লিচুগুলো বাসায়/মেসে নিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ফসল শারীরতত্ত্ব ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুব্রত কুমার প্রামাণিক বলেন, ‘ক্যাম্পাসের লিচুগুলো এখনো পাকেনি, খাওয়ারও উপযোগী নয়। লিচুগুলো পাকতে এখনো ১০ থেকে ১২ দিনের মতো সময় লাগবে। সঠিক সময়ে লিচুর আহরণ করা হলে, আমরা এই সুমিষ্ট ফলগুলো উপভোগ করতে পারব। এই কাঁচা অপরিপক্ব লিচু খেলে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। কাঁচা বা আঁধাপাকা লিচুতে থাকা টক্সিন হাইপোগ্লাইসিন এ এবং মিথাইলিন-সাইক্লো-প্রোপাইল-গ্লাইসিন নামক টক্সিন উপাদান বিষক্রিয়া ঘটিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে। আমাদের উচিত কাঁচা বা আধা পাকা লিচু খাওয়া থেকে বিরত থাকা।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে সচেতনতাও বাড়াতে হবে। আমরা চাই না, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে কোনো শিক্ষার্থী লিচু খাওয়ার উদ্দীপনায় অসুস্থ হয়ে পড়ুক। তাই এক্ষেত্রে নিজ দায়িত্বেই সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পর পরিপক্ব লিচু খেতে হবে।’