ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

[ শিক্ষা ]

জনপ্রশাসনকে নাগরিকবান্ধব হওয়ার আহ্বান ঢাবি উপাচার্যের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪:২২, ৩ অক্টোবর ২০২৬
জনপ্রশাসনকে নাগরিকবান্ধব হওয়ার আহ্বান ঢাবি উপাচার্যের
ছবি সংগ্রহীত

শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) শক্ত একাডেমিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে চান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এ জন্য দেশি-বিদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, গবেষণাকেন্দ্র এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের (অ্যালামনাই) সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগ আয়োজিত ‘পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও স্বতন্ত্র অবস্থানে নিতে হলে শিক্ষক ও গবেষকদের উচ্চমানের গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি অর্থায়নের সীমাবদ্ধতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার পর গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ অবশিষ্ট থাকে না। তাই গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল গঠন জরুরি।

এ ক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও গবেষণাকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদেরও গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রমে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

জনপ্রশাসন ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত সরকারের সময়ে জনপ্রশাসনকে দীর্ঘদিন একটি অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনপ্রশাসনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান এই পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। তার মতে, নতুন প্রজন্মের তরুণরা শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, বৈষম্যহীন ও আইনের শাসনভিত্তিক একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেও আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিল।

একটি গণআন্দোলন অন্যায় শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, তবে উন্নত ও নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা এবং একাডেমিক গবেষণা প্রয়োজন। সম্মেলনে উপস্থাপিত নীতি সংস্কার, নাগরিক অধিকার ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক গবেষণাপত্রগুলো রাষ্ট্রকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জনপ্রশাসনকে পুরনো ধ্যানধারণা থেকে বের হয়ে আরও উন্মুক্ত ও নিরপেক্ষ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের মনে রাখতে হবে—তাদের মূল দায়িত্ব নাগরিকদের সেবা করা, নাগরিকদের ওপর শাসন চালানো নয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লোকপ্রশাসন বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. সৈয়দা লাসনা কবীর। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এবং বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক ড. আকা ফিরোজ আহমদ। পর্বটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া ও মো. রবিউল ইসলাম।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
eMythMakers
Transform Your Digital Presence
Enterprise-grade IT & Web Solutions
Our Expertise
Custom Web Dev News Portals Mobile Apps SEO & Marketing
Ready to Scale Up?
Partner with industry experts today.
Get Started Now
eMythMakers
Transform Your Digital Presence
Enterprise-grade IT & Web Solutions
Our Expertise
Custom Web Dev News Portals Mobile Apps SEO & Marketing
Ready to Scale Up?
Partner with industry experts today.
Get Started Now
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!