নিউজিল্যান্ডের পর্বতারোহী এডমন্ড হিলারি নেপালের শেরপা জনগোষ্ঠীর তেনজিং নোরগেকে সঙ্গে নিয়ে এই দুঃসাহসী অভিযাত্রা সম্পন্ন করেন। অবিশ্বাস্য ও অবিস্মরণীয় এই কীর্তির ৭০ বছর পূর্তি হলো আজ।
১৮ শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে এভারেস্ট পর্বত পৃথিবীর উচ্চতম পর্বতের মর্যাদা পায়। ব্রিটিশ ভারতের সার্ভেয়ার জেনারেল স্যার জর্জ এভারেস্টের নামানুসারে ১৮৬৫ সালে এর নামকরণ হয়। ২৯ মে হিলারি ও তেনজিং এভারেস্টে পৌঁছালেও ওই দিনই বিশ্ববাসী এ খবর পায়নি। খবরটি সামনে আসে ২ জুন।
.png)

সেদিন গোটা পৃথিবী তাঁদের দুজনের এই কীর্তিতে অভিভূত হয়। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ওই দিনই ব্রিটিশ সিংহাসনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের রাজ্যাভিষেক হয়, যিনি গত বছর প্রয়াত হয়েছেন। হিলারি ও তেনজিং নবমবারের প্রচেষ্টায় এভারেস্টের শীর্ষে পৌঁছানোর পরের ২০ বছরে ৬০০ জন এর শীর্ষে আরোহণ করেন। এখন অবশ্য এত সংখ্যক মানুষ এক মৌসুমেই এভারেস্টের শীর্ষে চড়েন।
এভারেস্টে আরোহণের পর নেপালের অর্থনীতি ও পাহাড়ি সমাজে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। পাহাড়ি গ্রামগুলোতে পর্যটনশিল্পকে কেন্দ্র করে খাবার, হোটেল ও অন্যান্য খাতের ব্যবসার সুযোগ বেড়েছে। বিশেষ করে পেশাদার শেরপাদের আয়ের বড় দুয়ার খুলে গেছে। শেরপাদের ভূমিকার কারণে পর্বতারোহণের সঙ্গে এই জাতিগোষ্ঠীর নাম কার্যত সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এভারেস্টসহ পুরো হিমালয় পর্বত এখন জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার।
একসময়ের বরফের দৃঢ় ঢাল গলে যাচ্ছে। হিমবাহবিজ্ঞানী ডানকান কুইন্সি এভারেস্টের অন্যতম হিমবাহ ‘খুম্বু’র ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
তবে এভারেস্টের দুর্গম ও রহস্যজনক পরিস্থিতি এখন আর আগের মতো নেই। যোগাযোগ ব্যবস্থার আশীর্বাদ পৌঁছে গেছে এভারেস্টেও। ২০১১ সালে ব্রিটিশ পর্বতারোহী কেন্টন কুল তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রিজি) সংকেতের মাধ্যমে এভারেস্টের চূড়ায় দাঁড়িয়ে টুইট করেন। ২০২০ সালে চীন এভারেস্টের শীর্ষে পঞ্চম প্রজন্মের (ফাইভজি) যোগাযোগ প্রযুক্তি চালুর ঘোষণা দেয়।
দুর্গম ও বন্ধুর পথের যাত্রাটি এখন আগের তুলনায় সহজ হয়েছে, এমন বললে মনে হয় বাড়িয়ে বলা হবে না। ১৯৬৪ সালে নেপালে ‘এভারেস্টের প্রবেশদ্বার’খ্যাত লুকলা শহরে পাহাড়ি এলাকায় বিমান ওঠানামার ব্যবস্থা নেওয়ার পর বেসক্যাম্পে কাটানো মাসব্যাপী সময় আট দিনে নেমে এসেছে। এখন বছরে কয়েক শ পর্বতারোহী এভারেস্টের চূড়ায় চড়েন।
সূত্র: এএফপি