জার্মানিতে বিদ্যুতের দাম বেড়ে ৫ গুণ
তীব্র তাপদাহ ও খরার কারণে জলপথে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় জার্মানিতে বিদ্যুতের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে।
রাশিয়া ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে, তার মধ্যে গ্রীষ্মের এই যন্ত্রণাদায়ক গরম ইউরোপের দেশগুলোর জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে। এই চাপ পুরো ইউরোপজুড়েই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পরিবারের আয়ে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে; শীতের সময় জ্বালানির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সংকট আরো তীব্র হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুতের দাম বাড়ার পেছনে এর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় সবকিছুরই অবদান রয়েছে।
.png)
সর্বশেষ যা ‘গলা টিপে’ ধরছে, তা হল রাইন নদী। গত কিছুদিন ধরে এ জলপথ দিয়ে নৌ চলাচল কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়ানোয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত কয়লা সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এতে উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। সড়ক বা রেল পরিবহনের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি করা হচ্ছে। তবে এটি বেশ ব্যয়বহুল। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভবিষ্যত পরিস্থিতি আরো সংকটময় হতে পারে।
আরো পড়ুন>> ‘মোটা’ বলায় ব্রিটিশ পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিলেন অভিনেত্রী
তীব্র তাপদাহ ও খরার কারণে নদী, জলাধারগুলি শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে।
এসবের ফলে এরই মধ্যে ইউরোপিয়ান এনার্জি এক্সচেঞ্জে জার্মানির আগামী বছরের প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের দাম তিন দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৪২০ ইউরোতে পৌঁছে গেছে, যা এক বছর আগের দামের তুলনায় ৫ গুণেরও বেশি।
এনার্জি টেকনোলজি কোম্পানি ভলিউ-এর পানি বিশেষজ্ঞ সিলজে এরিকসেনের মতে, খুব দ্রুতই শুষ্ক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না কারণ, গরম ও শুষ্ক অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। তিনি একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, 'সমস্যাটি শুধু শুষ্ক একটি জুলাই বা কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস নয় বরং সারা বছরই শুষ্ক অবস্থা চলছে।'
আরো পড়ুন>> প্রেসিডেন্টের ক্ষমা পেলেন স্যামসাংয়ের উত্তরাধিকারী
জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের কিছু অংশে এ বছর বাতাসের প্রবাহ অন্য বছর থেকে কম। যা জীবাশ্ম জ্বালানী নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর জার্মনিকে আরো নির্ভরশীল করে তুলছে।
ফ্রান্সের পুরনো পরমাণুভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি কেন্দ্র এখন রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে বন্ধ রয়েছে, যার কারণে তাদেরকেও এখন প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছ থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে।