অবৈধভাবে ৪ হাজার স্মার্ট কার্ড ইস্যু, ফেঁসে গেলেন বিএমইটি’র দুই কর্মচারী
বিদেশে কর্মী নিয়োগ অনুমোদনের জন্য নিয়ম বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত ৩ হাজার ৯৭৮টি স্মার্ট কার্ড দেওয়ার অভিযোগে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে ২ হাজার ৯৬০টি স্মার্ট কার্ডের অনুমোদন দেওয়া হলেও বিএমইটি ইস্যু করে মোট ৬ হাজার ৯৩৮টি।
মামলায় অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা হলেন- বিএমইটি’র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. সাইদুল ইসলাম এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. সাইফুল ইসলাম।
মঙ্গলবার দুদকের ঢাকা কার্যালয়-১ এ মামলাটি করেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক রণজিৎ কুমার।
.png)
দুদকের মামলায় বলা হয়, ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নিয়োগ এজেন্সিকে দেওয়া বহির্গমন ছাড়পত্রের সংখ্যার সঙ্গে বিএমইটি’র ওয়েবসাইটে ক্লিয়ারেন্স রিপোর্টে আরব আমিরাতের জন্য ইস্যু করা ছাড়পত্রের সংখ্যায় পার্থক্য রয়েছে। অনেক সংখ্যা সম্পাদনা করে কমানো বা মুছে ফেলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া নিয়োগ অনুমতির সংখ্যার সঙ্গে মিল রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে দুদক জানতে পারে, ৮টি রিক্রুটিং এজেন্সির নামে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ১২ মে পর্যন্ত মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে ২ হাজার ৯৬০টি। কিন্তু বিএমইটি’র সফটওয়্যার থেকে স্মার্ট কার্ড ইস্যু করা হয়েছে ৬ হাজার ৯৩৮টি। অর্থাৎ অতিরিক্ত ৩ হাজার ৯৭৮টি স্মার্ট কার্ড বিএমইটি থেকে অবৈধভাবে দেওয়া হয়।
মামলায় আরো বলা হয়, ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে সাইদুল ইসলাম বিএমইটি’র সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নিয়ম অনুযায়ী সফটওয়্যারের ডেটাবেজে একমাত্র অ্যাক্সেস ছিল তার। সেই সুযোগে তিনি অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে স্মার্ট কার্ড ইস্যু করেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিদেশে কর্মী নিয়োগে বিএমইটি থেকে বহির্গমন ছাড়পত্র পেতে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগে। এরপর সেই অনুমতির কপি যায় বিএমইটিতে। সেখানে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন মোতাবেক বিএমইটি’র ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সফটওয়্যারে বিভিন্ন ডেটা দেওয়া হয়। এরপর বহির্গমন বা কল্যাণ ফিসহ অন্য ফি এবং আয়করের পে-অর্ডার ও চালান কপি জমা নিয়ে পর্যায়ক্রমে যাবতীয় কাজ সেরে বহির্গমন ছাড়পত্র আর স্মার্ট কার্ড নিতে হয় বিএমইটি থেকে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো সংশোধন, সংযোজন বা পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে তা কেবল আইটি শাখার সিস্টেম অ্যানালিস্ট করতে পারেন। অন্য কারো এ বিষয়ে কিছু করার এখতিয়ার নেই।