একসময় ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল প্রশান্ত মহাসাগরের মিডওয়ে অ্যাটলের বনিন পেট্রেল নামের সামুদ্রিক পাখি। দ্বীপে আক্রমণাত্মক কালো ইঁদুর ছড়িয়ে পড়ার পর পাখিটির বাসা, ডিম ও বাচ্চা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হতে থাকে। একপর্যায়ে দ্বীপটিতে বনিন পেট্রেলের প্রজননকারী জোড়ার সংখ্যা নেমে আসে ৫ হাজারেরও নিচে। কিন্তু সেই ইঁদুর নির্মূলের পর বদলে যায় পুরো চিত্র। দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ কার্যক্রমের ফলে পাখিটির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি প্রজননকারী জোড়ায়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, মিডওয়ে অ্যাটল থেকে আক্রমণাত্মক কালো ইঁদুর নির্মূল করার পর বনিন পেট্রেলের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। ২০০৮ সালের মধ্যে দ্বীপটির এই সামুদ্রিক পাখির প্রজননকারী জোড়ার সংখ্যা ১ লাখ ৩৫ হাজার ছাড়িয়ে যায়। সংরক্ষণবিদদের মতে, ইঁদুর অপসারণ পাখিগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর একটি দূর করতে সক্ষম হয়েছে।
.png)

বনিন পেট্রেল মাটির নিচে গর্ত করে বাসা তৈরি করে। ফলে দ্বীপে ছড়িয়ে পড়া ইঁদুর সহজেই তাদের ডিম ও বাচ্চার কাছে পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে বাসায় থাকা ডিম ও ছোট ছানাগুলো ইঁদুরের আক্রমণের শিকার হয়। এ কারণে ইঁদুরের উপস্থিতি এই পাখির প্রজননে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
হাওয়াইয়ের বন ও বন্যপ্রাণী বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মিডওয়ে ও কিউর দ্বীপে ইঁদুরের কারণে বনিন পেট্রেলের প্রজননকারী জনগোষ্ঠীর বড় ধরনের পতন হয়েছিল। প্রায় ৪০ বছরের ব্যবধানে মিডওয়েতে এই পাখির সংখ্যা ২ লাখ ৫০ হাজার প্রজননকারী জোড়া থেকে মাত্র ৫ হাজারে নেমে আসে।
_1787383863.jpg)
পরিস্থিতি পরিবর্তনে শুরু হয় আক্রমণাত্মক ইঁদুর নির্মূলের উদ্যোগ। যুক্তরাষ্ট্রের মাছ ও বন্যপ্রাণী সেবা জানিয়েছে, ইঁদুর অপসারণের পর মিডওয়ে অ্যাটলের পরিবেশে দ্রুত পরিবর্তন দেখা যায়। শুধু বনিন পেট্রেল নয়, দ্বীপের অন্যান্য ছোট প্রাণী ও উদ্ভিদও নতুন করে বিকশিত হতে শুরু করে।
ইঁদুর নির্মূলের পর বনিন পেট্রেলের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের মধ্যে প্রজননকারী জোড়ার সংখ্যা ১ লাখ ৩৫ হাজার ছাড়িয়ে যায় বলে দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংখ্যার এই পরিবর্তনই পুরো সংরক্ষণ উদ্যোগের সাফল্যকে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। একসময় যেখানে ৫ হাজারেরও কম প্রজননকারী জোড়া ছিল, সেখানে কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি।
অর্থাৎ, মানুষের তৈরি একটি পরিবেশগত সংকট—আক্রমণাত্মক ইঁদুরের বিস্তার—দূর করার পর প্রকৃতি নিজেই ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছে। তবে পাখির মোট সংখ্যা এবং প্রজননকারী জোড়ার সংখ্যা এক নয়—এ বিষয়টি মনে রাখা জরুরি।

ইঁদুর নির্মূলের সাফল্য এলেও মিডওয়ে অ্যাটলের সামুদ্রিক পাখিগুলো পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের মাছ ও বন্যপ্রাণী সেবা জানিয়েছে, দ্বীপের বন্যপ্রাণী রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি ও সংরক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।
বনিন পেট্রেল নিয়ে মিডওয়ে অ্যাটলের সরকারি তথ্যেও দেখা যায়, পাখিগুলো প্রতি বছর দ্বীপে ফিরে এসে নিজেদের বাসা প্রস্তুত করতে শুরু করে।
মিডওয়ে অ্যাটলের এই ঘটনা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা সামনে আনে। কোনো একটি ক্ষতিকর প্রজাতি একটি দ্বীপের পুরো বাস্তুতন্ত্রকে বিপর্যস্ত করতে পারে। আবার সেই হুমকি কার্যকরভাবে দূর করা গেলে বহু বছর ধরে বিপন্ন থাকা প্রাণীও দ্রুত ফিরে আসতে পারে।
৫ হাজারের নিচ থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি—বনিন পেট্রেলের এই প্রত্যাবর্তন তাই শুধু একটি পাখির সংখ্যা বাড়ার গল্প নয়; এটি দেখিয়ে দেয়, প্রকৃতিকে বাঁচার সুযোগ দিলে প্রকৃতি নিজেই কতটা শক্তিশালীভাবে ফিরে আসতে পারে।