নিহত আলম হক ওই এলাকার তসলিম উদ্দিনের ছেলে। তাঁর দুই সন্তান রাফিয়া মনি (৭) ও জুনায়েদ (৫) এখন মা-বাবাকে হারিয়ে নির্বাক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার রাতে খাবারের সময় মৌসুমী দুটি সাদা বড়ি পানির সঙ্গে মিশিয়ে আলমকে খেতে দেন। কিছুক্ষণ পর আলম বমি করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে প্রথমে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রংপুরে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
.png)
সোমবার স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের উপস্থিতিতে মৌসুমী দাবি করেন, একই এলাকার বাবুল হোসেন তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক না করলে মেয়েকে গুম করার হুমকি দেওয়া হতো বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বাবুলই তাঁকে দুটি সাদা ঘুমের বড়ি দিয়েছিলেন এবং স্বামীকে ওই ওষুধ খাওয়াতে বলেছিলেন।
মৌসুমী বলেন, ‘বাবুলের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক না করলে আমার মেয়েকে গুম করার হুমকি দিত। এরপর আমার হাতে দুটি সাদা ঘুমের বড়ি তুলে দেয়। ওই বড়ি খাওয়ালে আমার স্বামী ঘুমিয়ে পড়বে এবং সেই সুযোগে সে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করবে বলে জানায়। সন্তানকে বাঁচাতে আমি স্বামীকে পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়াতে বাধ্য হই। কিছুক্ষণ পর তিনি বমি করেন। ওই ওষুধ খাওয়ালে তিনি মারা যাবেন, তা আমি জানতাম না।’
নিহত আলমের ভাই জাকির হোসেন বলেন, ‘আমার ভাই খাওয়ার সময় তেতো স্বাদ পেয়েছিল। কিছুক্ষণ পর সে বমি করতে শুরু করে। তখনই আমাদের ধারণা হয়, তাকে কিছু খাওয়ানো হয়েছে। ভাবি তখনও বিষয়টি স্বীকার করেনি। আজ সবাই জিজ্ঞাসা করলে সে সত্যটি প্রকাশ করেছে। আমরা এ ঘটনায় ন্যায়বিচার চাই।’
প্রতিবেশী মায়া বেগম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মোবাইলে কথা বলা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ ছিল। তাই বলে স্ত্রী স্বামীকে এভাবে ওষুধ খাইয়ে হত্যা করবে, এটা কল্পনাও করা যায় না। এখন এই দুই সন্তানের কী হবে? আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, বাবুল এলাকায় খারাপ প্রকৃতির মানুষ হিসেবে পরিচিত। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক নারীঘটিত অভিযোগ শোনা গেছে।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, আলম হকের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। সোমবার তাঁর স্ত্রীকে স্থানীয়রা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান