ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ধর্ম ]

বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা) এর জন্ম ও বংশ পরিচিতি 

মুফতি আবু ইয়ামীন কাসেমী
প্রকাশিত: ১৭:২২, ১০ অক্টোবর ২০২২
বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা) এর জন্ম ও বংশ পরিচিতি 
মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. এর রওজা মোবারক। ছবি: সংগৃহীত

২০ এপ্রিল ৫৭০/৭১ খ্রিষ্টাব্দে সোমবার দিবাগত রাত্রিতে সুবহে সাদেকের সময় উম্মতের কান্ডারী, বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত, বিশ্বনবী এবং সর্বশেষ নবী ও রাসূল মুহাম্মদ (সা) আবু তালেবের ঘরে জন্ম গ্রহণ করেন। 

মুহাক্কিকীনদের মতে এটা রবিউল আওয়াল মাসের ৯ (নয়) তারিখ ছিল। তবে ৮ ও ১২ তারিখও অনেকে মত পেশ করেছেন। যেমন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. ও জুবাইর ইবনু মুতয়িম রা. এমন রায় পেশ করেন। 

দাদা তার নাম রাখলেন মুহাম্মদ, অন্য রেওয়ায়েত মুতাবেক মা রাখলেন আহমদ। রাসূলুল্লাহ সা. বড় হবার পর সাহেবজাদার নামে আবুল কাসিম কুনিয়াত লাভ করেন। পিতার নাম হযরত আব্দুল্লাহ, মাতার নাম হযরত আমিনা, দাদার নাম আব্দুল মুত্তালিব পর দাদার নাম হাশেম এবং দাদীর নাম ফাতিমা। নানা ওহহাব এবং নানির নাম বাররা।   

Advertisement

মুহাম্মদ সা. এর পিতার বংশ:  মুহাম্মদ সা. বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশেম বিন আব্দে মানাফ বিন কুছাই বিন ক্বিলাব বিন মুররা বিন কা'আব বিন লু'ওয়াই বিন গালিব বিন ফাহার বিন মালিক (কুরাইশ) বিন নাযার বিন কিনানা বিন খুযাইমা বিন মুদরিকা বিন ইলইয়াস বিন মুযার বিন নিযার বিন মা’দ বিন আদনান। 

মুহাম্মদ সা. এর মাতার বংশ:  মুহাম্মদ সা. এর বংশ মাতার পক্ষ থেকে কিলাবের সাথে গিয়ে মিলে যায়। যেমন, আমিনা বিনতে ওহহাব বিন আব্দে মানাফ বিন যুহরাহ বিন ক্বিলাব। 

মুহাম্মদ (সা) এর বাবা ও চাচাগণ দশ ভাই ছিলেন। (১) আব্বাস (২) হামযা (৩) আবু লাহাব (৪) আবু তালিব (৫) যুবায়ের (৬) হারেস (৭) মুকওইমু (৮) হাজল (৯) দিরার (১০) হযরত আব্দুল্লাহ। তাদের মধ্য থেকে হযরত হামযা ও হযরত আব্বাস রা. ইসলাম লাভে ধন্য হন। আবু তালিব মুহাম্মদ (সা) এর আপন এবং অনেক সাহায্যকারী ও প্রিয় চাচা ছিলেন। এর বিপরীত আবু লাহাব খুবই বড় দুশমন ছিল।  

মুহাম্মদ (সা) এর ছয়জন ফুফু ছিলেন। (১) উম্মে হাকিম (২) আতিকা (৩) বাররা (৪) উমাইয়া (৫) আরওয়া (৬) ছাফিইয়া। তাদের মধ্য থেকে হযরত ছাফিইয়া রা. ইসলাম লাভে ধন্য হন এবং উম্মে হাকিম মুহাম্মদ (সা) এর পিতার জমজ বোন ছিলেন। 

মুহাম্মদ (সা) এর জন্মের দুই মাস পূর্বেই পিতার ইন্তিকাল হয়, জন্মের পর মা আমিনা তিন দিন এবং আবু লাহাবের দাসী হযরত সুয়াইবাহ তিন মাস দুধ পান করান। এরপর হযরত হালিমা সাদিয়া রা. পূর্ণ দুই বৎসর দুধ পান করান।    

মুহাম্মদ (সা) এর দুধ ভাই-বোন অর্থাৎ (হযরত হালিমা সাদিয়া রা. এর আপন সন্তানের) নাম, আব্দুল্লাহ, হুযাইফা, উনাইসা ও সাইমা। মুহাম্মদ (সা) এর দুধ পিতা অর্থাৎ (হযরত হালিমা সাদিয়া রা. এর স্বামীর) নাম হারেস বিন আব্দুল উযযা। 

হযরত ছুয়াইবাহ এবং হযরত হালিমা সাদিয়া রা. সর্ব প্রথম মুহাম্মদ (সা) এর উপর ঈমান আনেন। হারেস বিন আব্দুল উযযা, আব্দুল্লাহ এবং সাইমা রা. পরে ইসলাম কবুল করে ধন্য হন। 

হযরত ছুয়াইবাহ রা. এর দুধ হযরত হামযা, হযরত জাফর, হযরত উম্মে সালমার প্রথম স্বামী হযরত আবু সালমা এবং হযরত ছুয়াইবাহ রা. এর সাহেবজাদা মাছরুরও তার দুধ পান করেছিল। এমনকি হযরত হালিমা সাদিয়া রা. থেকে দুধ পান কারীদের মধ্যে মুহাম্মদ (সা) এর চাচাতো ভাই হযরত সুফিয়ান বিন হারেস রা. ও ছিলেন।  এভাবে এরা সবাই মুহাম্মদ (সা) এর দুধ ভাই বোন ছিলেন। 

অন্যান্য আরো কিছু নারীও মুহাম্মদ (সা) কে দুধ পান করিয়েছিলেন। ছয় বৎসর বয়সে মা আমিনা মদিনায় ইন্তেকাল করেন। এরপর আট বছর দুই মাস দশ দিন পর আপন দাদা হযরত আব্দুল মুত্তালিবও ইন্তেকাল করেন। এরপর হযরত আবু তালিব শিশু মুহাম্মদ সা. এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার স্ত্রী হযরত ফাতিমা বিনতে আসাদও শিশু মুহাম্মদ সা. কে অনেক মহব্বত করতেন, যে ব্যপারে মুহাম্মদ সা. নিজেই উল্লেখ করেছেন যে, সেই চাচা এবং চাচি আমাকে পিতা-মাতার আদর ও মহব্বত দান করেছেন। হজরত আব্দুল মুত্তালিবের পর অসিয়ত মুতাবেক মুহাম্মদ সা. এর চাচা যোবায়ের বনু হাশেমের সরদার হন এবং তের বৎসর সরদার থাকেন। তার ইন্তেকালের সময় মুহাম্মদ সা. এর বয়স ২১-২২ বছর ছিল। তারপর মুহাম্মদ সা. এর বয়স পঞ্চাশ পর্যন্ত চাচা আবু তালিব বনু হাশেমের সরদার থাকেন। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!