ফেডারেশনের খামখেয়ালিতে হারিয়ে যাবে শাটলার এলিনা!
বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টনে নাটকের শেষ নেই। সিদ্ধান্ত বদলে তাদের জুড়ি মেলা ভার। জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশীপের তারিখ নিয়ে জল ঘোলা করছে একের পর। আর এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শাটলাররা। ফেডারেশনের তালবাহানায় র্যাংকিংয়ের এক নম্বরে থাকা এলিনা সুলতানার ক্যারিয়ার ধ্বংসের পথে।
জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশীপ থাকে শাটলারদের স্বপ্ন। যা এখন ভাঙার পথে। চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের তত্ত্বাবধানে এবং চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় ‘৩৬তম জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশীপ-২০১৯’ আগামী ২০-২৫ জুন ২০১৯ তারিখে চট্টগ্রাম জেলায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
পরে জুন মাসের ২০ তারিখে আবারো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘৩৬তম জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশীপ-২০১৯’,পরিবর্তিত তারিখ ১৫ জুলাই।
সেভাবেই প্রস্তুতি চলছিল শাটলারদের। হুট করে জুলাই ৯ তারিখে জানা যায় যে, আবারো তারিখ বদল হচ্ছে চ্যাম্পিয়নশীপের। ফেডারেশন থেকে তারিখ পরিবর্তনের (২৭-৩১ জুলাই) একটি চিঠি যায় অংশগ্রহনকারী শাটলারদের কাছে। তাতেই বাড়তে থাকে জটিলতা ও পেরেশানি।
এদিকে বিভিন্ন জেলার শাটলাররা ১৪ জুলাই চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য অগ্রিম টিকিট করে রাখেন। কেউ কেউ চট্টগ্রামে হোটেল বুকিংও দিয়ে রাখেন। ফেডারেশনের এমন সিদ্ধান্তের পর তারা দিশেহারা হয়ে যান। কেউ কেউ বুকিং বাতিল করেন। কেউ কেউ জরিমানা দিয়ে টিকিট ফেরত দেন।
বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বাহারের সঙ্গে কথা বলে আবারো তারিখ কনফার্ম হন জাতীয় র্যাকিং এক এ থাকা নারী শাটলার এলিনা সুলতানা।
মানারত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে এন্ড কলেজের চাকরিতে এলিনার জয়েন করার কথা ছিল ১৪ জুলাই। ১৫ তারিখে চ্যাম্পিয়নশীপের জন্য অনুরোধ করে তা তিনি পিছিয়ে দেন।
এমন পরিস্থিতিতে ১০ জুলাই ফের ফেডারেশন জানায়, কোনো তারিখ পরিবর্তন হবে না। ১৫ জুলাই হবে টুর্নামেন্ট। এই পরিস্থিতিতে আবারো নতুন করে বিপদে পড়ে শাটলাররা। আর এতেই হুমকির মুখে পড়েছে এলিনার ক্যারিয়ার।
তিনি ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানে কতবার অনুরোধ করা যায়। ফেডারেশন কাউকে বেতন দেয় না। সবারই কিছু না কিছু করতে হয়। মানারাত আমাকে যথেষ্ট মূল্যায়ন করেছে। কিন্তু তাদের কাছে আমি আর কোনো সুবিধা চাইতে পারবো না। আমার একটা আত্মসম্মান আছে। এভাবে হলে আমরা তো সব ম্যানেজ করে খেলতে পারবো না। ছেড়ে দিতে হবে খেলা। তাহলে আমার ক্যারিয়ার কি এখানেই শেষ?
চট্টগ্রাম ভেন্যু হওয়াতে আয়োজকরা সেখানে সম্পূর্ণ আয়োজন করে রেখেছেন। টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের কাছে তারিখ পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, তারিখ পরিবর্তনের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ফেডারেশনের সেক্রেটারি বলেছেন পরে জানাবেন।
মজার বিষয় হলো তারিখ পরিবর্তনের যে চিঠি ইমেইলে দেয়া হয়েছে সে বিষয়ে কিছুই জানেন না সেক্রেটারি আমির হোসেন বাহার। তার কথায়, একটি চিঠি আমরা রেডি করে রেখেছি ১০ জুলাই ছাড়বো বলে। সেটি কিভাবে ৯ জুলাই ছাড়া হলো, সেটি বোধগম্য নয়। মনে হচ্ছে অফিস পিওন সেটি ছেড়েছে।
অবশেষে আজ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনে সভা করে ১৫ জুলাই টুর্নামেন্টের তারিখ বহাল রাখা হয়।
ডেইলি বাংলাদেশ/আরএস/আরএ