হলান্ডের পাঁচে লাইপজিগকে উড়িয়ে দিল সিটি
গত কয়েক ম্যাচ থেকে গোল পাচ্ছিলেন না নরওয়েজিয়ান ম্যানসিটির ফরোয়ার্ড আর্লিং হলান্ড। তা নিয়ে ভক্তকুলের মধ্যে কম সমলোচনা হয়নি। তবে সব উত্তর দিলেন এই ম্যাচে। জার্মান ক্লাব লাইপজিগকে গুণে গুণে একাই দিলেন পাঁচ গোল। আর তাতেই মঙ্গলবার দিবাগত রাতে (১৪ মার্চ) চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর ফিরতি পর্বে লাইপজিগকে ৭-০ গোলে হারিয়েছে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা।
প্রথম লেগের ম্যাচে স্কোরলাইন ছিল ১-১। দুই পর্ব মিলে স্কোরলাইন দাড়ায় (৮-১)। তাতেই পরের পর্বে অর্থ্যাৎ শেষ আটে পিকিট কাটল ম্যানচেস্টার সিটি।
গতকাল ইতিহাদ স্টেডিয়ামে শুরু থেকে দাপুটে খেলতে থাকে সিটি। কারণ ঘরের মাঠ। আর প্রথম লেগের হোচঁটের পর মজা করে ফিরতি লেগে ৯ স্ট্রাইকার খেলানোর কথা বলেছিলেন সিটির কোচ গার্দিওলা। তার কথাটাকে যেন একটু বেশিই সিরিয়াসলি নিয়ে নিলেন হলান্ড। আর ততেই তিনি দেখিয়ে দিলেন।
.png)
ইতিহাদে ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই জার্মান ক্লাবটির ওপর দাপট দেখাতে থাকে ম্যানসিটি। খেলার ২২ মিনিটে হলান্ডের গোলে এগিয়ে যায় সিটি (১-০)। তবে গোলটিতে তারচেয়ে প্রতিপক্ষের অবদানই বেশি। ডি-বক্সে লাইপজিগ ডিফেন্ডার বেঞ্জামিন হেনরিকসের হাতে লাগলে ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি দেন রেফারি। সেখান থেকে সফল স্পট-কিক নেন হলান্ড।
মিনিট দুয়েক পর আবারও সফরকারীদের গোলপোস্টে কেভিন ডি ব্রুইনাদের হানা। সেই গোলটি এই বেলজিয়ান মিডফিল্ডারের হতে পারত। কিন্তু বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বল হেড দিয়ে জালে পাঠান হলান্ড।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে হলান্ড ভাগ্যের ছোঁয়ায় হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। ডে ব্রুইনার কর্নারে রুবেন দিয়াজের জোরালো হেড পোস্টে লেগে গোললাইনের ওপর দিয়ে চলে যায়। সেখান থেকে লাইপজিগের ডিফেন্ডারের ক্লিয়ারের চেষ্টায় বল চলে যায় হলান্ডের পায়ে। এরপর আর শট নিতে হয়নি, বলটি জালের ঠিকানা খুঁজে নেয়। ৩-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় লাইপজিগ।
দ্বিতীয়ার্ধে নেমে সিটি তাদের গোলমেশিন অব্যাহত রাখে। ৪৯তম মিনিটেই ব্যবধান বাড়ায় গার্দিওলার শিষ্যরা। এবার স্কোরশিটে নাম তুলেন জার্মান মিডফিল্ডার ইলকাই গুনদোয়ান। জ্যাক গ্রিলিশের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে ১৬ গজ দূর থেকে নেওয়া শটে তিনি গোলটি করেন।
পরবর্তী ৮ মিনিটে আরও লাইপজিগের জালে আরও দু’বার বল পাঠান হলান্ড। নিজের চতুর্থ গোলের জন্য তার নেওয়া হেড ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক। এরপর জোরালো শটে তিনি লক্ষ্যভেদ করেন। তিন মিনিট বাদেই সতীর্থ আকিনজিকে গোলরক্ষক থামালেও আবারও সেখানে হাজির নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন।
ফিরতি বল পেয়ে তিনি জোরাল শট নেন। যোগ করা সময়ে লাইপজিগের কফিনে সপ্তম পেরেক ঠুকে দেন ডে ব্রুইনা। ২৫ গজ দূর থেকে তার ডান পায়ের শটে বল ওপরের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়।
একই সময়ে মাঠে গড়ানো শেষ ষোলোর আরেক ম্যাচে পোর্তোর মাঠে গোলশূন্য ড্র করেছে ইন্টার মিলান। প্রথম লেগে ১-০ গোলে জেতায় শেষ আটের টিকেট পেয়েছে ইতালিয়ান দলটি।