ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]
ফিরে দেখা বিশ্বকাপ

১৯৯৬: লংকান ক্রিকেটে নতুন সূর্যোদয়

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫:২১, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩
১৯৯৬: লংকান ক্রিকেটে নতুন সূর্যোদয়
ছবি- ডেইলি বাংলাদেশ

কালের পরিক্রমায় ক্রিকেটে কত না পরিবর্তন।  শুরুটা এক, এখন আরেক। এই যে ভিন্নতা তবু কমেনি রঙ, ভাটা পড়েনি উন্মাদনায়ও। চার বছর পেরিয়ে আবারো এলো বিশ্বকাপ। এবার প্রতিবেশী দেশ ভারতে বসবে ১৩তম আসরটি। তার আগে সেদিনের বিশ্বকাপগুলোতে চোখ বোলানো যাক। 

বিশ্বকাপের আগের আসর নিয়ে ডেইলি বাংলাদেশের ১২ পর্বের প্রতিবেদনে আজ থাকছে ষষ্ঠ পর্ব-১৯৯৬: লংকান ক্রিকেটে নতুন সূর্যোদয়।

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। ঠিক এমনই এক সময়ে রুপকথার রাজকুমার হয়ে হাজির হন সনাথ জয়সুরিয়া। যার রাজ্যের বাকিরাও দেখিয়ে দেন ঝলক। তাতে ক্রিকেটের আকাশে নতুন চ্যাম্পিয়নের উদয় হয়। অনেকটা ধুমকেতুর মতো। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার দাপটের দিনে লংকান রুপকথা হবে কে জানতো?

Advertisement

অথচ টুর্নামেন্টের আগে শ্রীলংকাকে নিয়ে রসিকতা হতো। তবে স্যার রিচার্ড হ্যাডলির মতো দু-একজন তাদের ‘ডার্ক হর্স’ মানেন। আর অর্জুনা রানাতুঙ্গার দল চমকে দিতে শুরু করেছিল বিশ্বকাপের শুরু থেকেই। সেই চমকের শেষ অঙ্কটা মঞ্চস্থ হয়েছিল লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে। ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ে। যে জয়ের খানিকটা পরই শুরু ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। সেই বৃষ্টি ছুঁয়ে নিজেদের প্রথম শিরোপা উৎসব করে লংকানরা।

১৯৯৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি শ্রীলংকা। ছবি- সংগৃহীতসেবারই প্রথম ১২টি দেশকে নিয়ে আয়োজন করা হয় ওয়ানডে বিশ্বকাপ। আর আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সুযোগ মেলে আইসিসি’র সহযোগী তিন দেশ নেদারল্যান্ডস, আরব আমিরাত ও কেনিয়ার। 

১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপের পর ভারত পাকিস্তানের সাথে এশিয়ার তৃতীয় দেশ হিসেবে সহযোগী আয়োজক হওয়ার সুযোগ পায় শ্রীলংকা। আগের পাঁচ আসরের অনেক রেকর্ডই ভেঙে যায় দ্রুত। সেবার তিন দেশের ৩৬ ভেন্যুতে মোট ৩৯টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাটে-বলে ভারতীয়দের জয়জয়কার দেখে বিশ্ব। অনিল কুম্বলে সর্ব্বোচ্চ ১৫ উইকেট শিকার করেন আর দুই সেঞ্চুরির সাথে শচীন টেন্ডুলকার করেন ৫২৩ রান। তবে দু’জনের বাহিরে ব্যাটে বলে দারুণ অবদান রাখেন শ্রীলংকার জয়সুরিয়া। দলকে বিশ্বকাপ জেতানোর পাশাপাশি প্রতি ম্যাচেই জয়ের অবদান রাখায় জয়সুরিয়া হন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়।

এসবের বাইরেও আরো কিছু কারণে ১৯৯৬ এর বিশ্বকাপ ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে হয়ে আছে স্বরণীয় এক অধ্যায়। কারণ তখন শ্রীলংকায় গৃহযুদ্ধ চলছে। সেই দুঃসময়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের সঙ্গে ছোট দেশ হয়ে বিশ্ব মুকুট জয়ের অনন্য কৃতিত্ব দেখায় লংকানরা। 

অজিদের হারিয়ে উৎসবে মাতেন লংকান ক্রিকেটাররা। ছবি- সংগৃহীতশুধু তাই নয়, আধুনিক ক্রিকেটে নতুন এক ধারাও উদ্ভব করে লংকানদের দুই ক্ষ্যাপাটে ওপেনার কালুভিতারানা ও জয়সুরিয়ার ব্যাটিং। ১৫ ওভারে তখন ক্রিকেটীয় সংস্কৃতি ছিল, নতুন বলে ধৈর্যের সাথে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানরা বলকে পুরোনো করবে। কিন্তু এই ধারনাকে পাল্টে দেয় কালুভিতারানা ও সনাথ জয়সুরিয়া জুটি আগ্রাসী ব্যাটিং। এ দুই ওপেনার মিলে আসরটিতে ১৫ ওভারে একশোর বেশি রান তোলেন তিনবার। এরপর ক্রিকেটের পরাশক্তি দেশগুলো বদলে ফেলে প্রথম ১৫ ওভারের ব্যাটিং কৌশল।

একদিকে তামিল বিদ্রোহীদের সাথে দেশটির সরকার বাহিনীর যুদ্ধ। ঘরে ও বাইরে অশান্তির আগুন। সেই আগুন নিভিয়ে শান্তি ফেরাতে বিশ্বকাপকেই পুঁজি করেন রানাতুঙ্গারা। শেষ পর্যন্ত তারা সফলও হন। আসরে নিরাপত্তার কারণে কেনিয়ার কাছে সবচেয়ে বড় অঘটনের শিকার উইন্ডিজ ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দু’টি ম্যাচে ওয়াক ওভার পায় শ্রীলংকা।

বিশ্বকাপ শিরোপা হাতে লংকান অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা। ছবি- সংগৃহীতআসরে ‘এ’ গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটে স্বাগতিকরা। এরপর শক্তিশালী ইংল্যান্ড আর ভারতকে হারিয়ে চমকে দেয় সবাইকে। একলাফে ফাইনালে চলে যায় তারা। যেখানে অজিদের ২৪১ রানে থামিয়ে ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে নোঙ্গর করে লংকানরা। মূলত সেদিনের পর থেকে রানাতুঙ্গা, গুরুসিংহা, ডি সিলভা ও মুরালিধন জয়সুরিয়াদের হাত ধরেই ক্রিকেট বিশ্বে নতুন এক শ্রীলংকার আর্বিভাব ঘটে।

একনজরে ১৯৯৬ ওয়ানডে বিশ্বকাপ:

আয়োজক দেশ: ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকা 
চ্যাম্পিয়ন দল: শ্রীলংকা
অংশগ্রহণকারী দল: ১২
মোট ম্যাচ: ৩৭
টুর্নামেন্টসেরা: সনাথ জয়াসুরিয়া
সর্বোচ্চ রান: ৫২৩ রান (শচীন টেন্ডুলকার)
সর্বোচ্চ উইকেট: ১৫ উইকেট (অনিল কুম্বলে)।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআইএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!