ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]
জার্মান সাংবাদিক

‘বাংলাদেশের সামনে দারুণ কিছু সুযোগ রয়েছে’

আসমাউল মুত্তাকিন
প্রকাশিত: ০৯:২৮, ২৮ নভেম্বর ২০২৩
‘বাংলাদেশের সামনে দারুণ কিছু সুযোগ রয়েছে’
জার্মানির ক্রীড়া সাংবাদিক জেসিকা স্কিমার (বাঁয়ে) ও ফিলিপ বেকার প্রথমবার এসেছেন বাংলাদেশে। ছবি: বদিউজ্জামান

ঘরের মাঠে বসুন্ধরা কিংস তখন উল্লাসে ব্যস্ত, কারণ পিছিয়ে পড়ে এএফসি কাপে মাজিয়া বিপক্ষে ২-১ গোলে জয় পেয়েছে তারা। নিঃসন্দেহে কিংসের জন্য এটি দারুণ খবর।  কিংসের এই জয় চোখের সামনে দাঁড়িয়ে দেখলেন তিনি। মুখে বলেন উঠলেন ‘ওয়াও, সো বিউটিফুল, গ্রেট গেম’। তার কথা শুনে অবাক দৃষ্টি তাকিয়ে দেখলো প্রেস-বক্সে বসা অনেক গণমাধ্যমকর্মীরাই। কারণ কিংসের প্রেসবক্সে উপস্থিত ভিন্নদেশি অতিথি। 

পরিচয়ে জানা গেলো তার নাম ফিলিপ বেকার। তিনি জার্মানির ফুটবল ভিত্তিক গণমাধ্যম ‘পিবি রেকডেকশন’এর ক্রীড়া সাংবাদিক। তার সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছেন ঐ পত্রিকার আরেক ক্রীড়া সংবাদিক জেসিকা স্কিমারও। দুই জনেই বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার প্রেসবক্সে বসে এএফসি কাপে বসুন্ধরা কিংস ও মাজিয়ার লড়াই দেখলেন। ম্যাচ শেষে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বললেন ফিলিপ বেকার। জানলেন ও জানালেন বাংলাদেশ ফুটবলের খবর ও জার্মান ফুটবলের খবর। 

ম্যাচের চারদিন আগে অর্থাৎ (২৩ নভেম্বর) এএফসি কাপে বসুন্ধরা কিংস ও মাজিয়া স্পোর্টস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন ম্যাচটি কাভার করতেই ঢাকায় এসেছেন তারা। দুইজনের প্রথমবার বাংলাদেশ ভ্রমণ করছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবল নিয়েও জানার আগ্রহ আছে তাদের। 

Advertisement

ঢাকায় আসার আগে বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে বেশ পড়াশোনোও করেছেন ফিলিপ। তার কন্ঠে বাংলাদেশের ফুটবল সর্ম্পকে শুনে এমনটি ধারণা করাও যেতে পারে। লাল-সবুজের ফুটবল সর্ম্পকে ফিলিপ বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে জানার আগ্রহী ছিলাম। ক্যারিয়ারের প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এসেছি। এখানে কয়েকদিন ধরে আছি। আমি মূলত এদেশের ঘরোয়া ফুটবল ম্যাচ দেখার জন্য এসেছিলাম। তবে  এএফসি কাপের ম্যাচ দেখা হল। আমি খুশি।’

‘আমি বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে জানার আগ্রহী ছিলাম। ক্যারিয়ারের প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এসেছি। এখানে কয়েকদিন ধরে আছি। আমি মূলত এদেশের ঘরোয়া ফুটবল ম্যাচ দেখার জন্য এসেছিলাম। তবে  এএফসি কাপের ম্যাচ দেখা হল। আমি খুশি।’

বসুন্ধরা কিংসের ম্যাচকে দারুণ বলে ফিলিপ আরো জানান, ‘দেখুন আজকের ম্যাচে দারুণ খেলেছে বসুন্ধরা কিংস। বিশেষ করে গোল হজম করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। শেষ দিকে এসে জয় পেয়েছে। আমি ম্যাচটি ইনজয় করেছি।’ 

সম্প্রতি সময়ে বাংলাদেশের ফুটবল ভালো করছে। এশিয়ার মধ্যে নিজেদের জাত নতুন করে চেনাচ্ছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমান সময়ে এশিয়ার মধ্যে ভালো ফুটবল খেলছে। স্পেশালভাবে বলতে গেলে, ২০২৬ বিশ্বকাপে বাছাই পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ দল। বর্তমানে সেখানে তারা (বাংলাদেশ) খেলছে, এখানে দারুণ কিছু সুযোগ তাদের সামনে রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ যদি নিজেদের মিলিয়ে ধরে তাহলে এশিয়ায় তারা দারুণ কিছু করবে।’

এএফসি কাপে বসুন্ধরা কিংস ও মাজিয়ার ম্যাচ শেষে জার্মান সংবাদিক ফিলিপ বেকার সঙ্গে  এই প্রতিবেদক।

বাংলাদেশের অধিনায়ক  জামাল ভূঁইয়ার খেলা দেখেছেন ফিলিপ। জানান , ‘তোমাদের দলে অধিনায়কের নাম জামাল... রাইট। (হেসে দিলেন) যতটুকু জানি সে আর্জেন্টিনায় খেলছে। তার কয়েকটি খেলা দেখেছি। তার মধ্যে অন্যরকম একটি গুণ রয়েছে। তুমি এই গুণটি বের করো? (হাসি মুখে এই প্রতিবেদককে প্রশ্ন করে)।’

বাংলাদেশের মানুষ অতিথি পরায়ণ। এমনটি আগে জেনেছিলেন ফিলিপ। তবে ঢাকায় পা রেখে সেটি বিশ্বাস হলো তার। চারদিনের মধ্যে প্রথম দুইদিন ছিলেন পুরান ঢাকায়। সেখানকার স্থানীয় খাবার খেয়েছেন তিনি। যার মধ্যে জালি কাবাব, মোরগ পোলাও তার পছন্দ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দেখো তোমাদের ( এ প্রতিবেদককে) শহরে রয়েছে বেশকিছু স্থানীয় খাবার রয়েছে। এগুলো মধ্যে জালি কাবাব, মোরগ পোলাও- এগুলো খেয়েছি...(হাসি)  তবে পুরান ঢাকার কিছু খাবার আমার ভালো লেগেছে। যার মধ্যে বিরানি অন্যতম। তোমাদের এই শহরে কেমন করো তোমরা চলো। কারণ এ শহরে জ্যাম আমার কাছে বিরক্তিকর।’

‘দেখো তোমাদের ( এ প্রতিবেদককে) শহরে রয়েছে বেশকিছু স্থানীয় খাবার রয়েছে। এগুলো মধ্যে জালি কাবাব, মোরগ পোলাও- এগুলো খেয়েছি...(হাসি)  তবে পুরান ঢাকার কিছু খাবার আমার ভালো লেগেছে। যার মধ্যে বিরানি অন্যতম। তোমাদের এই শহরে কেমন করো তোমরা চলো। কারণ এ শহরে জ্যাম আমার কাছে বিরক্তিকর।’

জার্মানির ঘরোয়া ফুটবল এবং বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের মধ্যে কী কী পার্থক্য ফিলিপের চোখে পড়ছে? এমন প্রশ্ন করলে ফিলিপ আরো বলেন, ‘জার্মানির ও বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। বিশ্বের সবাই জানে, জার্মানির ঘরোয়া ফুটবল অনেক জনপ্রিয়। সেখানে অনেক বিখ্যাত খেলোয়াড় খেলে।  সেখানে অনেক ভালো ফুটবলার রয়েছেন। এছাড়াও জার্মানির ঘরোয়া ফুটবল খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এদিকে বাংলাদেশের ফুটবলেও প্রতি মৌসুমে ধীরে ধীরে উন্নতি করছে। এখানকার দেশি খেলোয়াড়রা নিজেদের ইম্প্রুভ করছেন। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। তারা কঠোর পরিশ্রম করছেন। আমি আশা করি, আগামী দুই-তিন বছরে এ দেশের ঘরোয়া ফুটবল আরো উন্নতি করবে। পাশাপাশি বড় বড় লিগকে চ্যালেঞ্জ জানাবে।’

‘জার্মানির ও বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। বিশ্বের সবাই জানে, জার্মানির ঘরোয়া ফুটবল অনেক জনপ্রিয়। সেখানে অনেক বিখ্যাত খেলোয়াড় খেলে।  সেখানে অনেক ভালো ফুটবলার রয়েছেন। এছাড়াও জার্মানির ঘরোয়া ফুটবল খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এদিকে বাংলাদেশের ফুটবলেও প্রতি মৌসুমে ধীরে ধীরে উন্নতি করছে। এখানকার দেশি খেলোয়াড়রা নিজেদের ইম্প্রুভ করছেন। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। তারা কঠোর পরিশ্রম করছেন। আমি আশা করি, আগামী দুই-তিন বছরে এ দেশের ঘরোয়া ফুটবল আরো উন্নতি করবে। পাশাপাশি বড় বড় লিগকে চ্যালেঞ্জ জানাবে।’

বাংলাদেশে ফুটবলের কাঠামোর প্রশংসা করে তিনি এই প্রতিবেদকে জানান, ‘দেখো তোমার ঘরোয়া লিগের মান বাড়ছে। এখন কিছু দারুণ ফুটবলার তৈরি হবে। এখানে আর্ন্তজাতিক মানের স্টেডিয়াম তৈরি হচ্ছে। বসুন্ধরা কিংসের মতো ক্লাবগুলো তোমাদের ঘরোয়া ফুটবলে দারুণ ভূমিকা রাখছে। তোমাদের নিজস্ব ক্লাবের ভেন্যু রয়েছে। এখানকার ফুটবল এখন ইতিবাচক পরির্বতন হচ্ছে। এটা দারুণ।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএসএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!