জেলা ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, আসাদুল চুরি করতে গিয়ে হামলার কথা বললেও তা পুরোপুরি সত্য বলে ধরে নেয়া হচ্ছে না। ইউএনও ওয়াহিদা খানমের সরকারি কার্যক্রমে কেউ নাখোশ ছিল কিনা এবং ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা ছিল কিনা- সে প্রশ্নের উত্তরও খোঁজা হচ্ছে। হামলার ঘটনায় শাহজাহান শেখ ও সোহেল রানা নামে আরো দুইজনকে রোববার ভোরে আটক করা হয়েছে। শাহজাহানের বাড়ি ঘোড়াঘাটের বানিয়াল পালশা গ্রামে ও সোহেলের বাড়ি চক বাসুনিয়া বিশ্বনাথপুরে।
এদিকে, রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওয়াহিদা খানমের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে।
.png)
ইউএনও ওয়াহিদা খানমের চিকিৎসার তত্ত্বাবধানকারী অধ্যাপক ডা. জাহেদ হোসেন জানান, হামলার পর জ্ঞান হারানোর আগের ঘটনা মনে করতে পারছেন ওয়াহিদা। তার হার্ট, রক্তচাপ, স্নায়ুতন্ত্র স্বাভাবিক কাজ করছে। অক্সিজেন সেচুরেশন স্বাভাবিক আছে। তবে তার শরীরের ডান পাশ এখনো অবশ। এ জন্য তাকে ফিজিওথেরাপি দেয়া হচ্ছে। মাথায় এখনো ব্যথা আছে। তবে এটা ধীরে ধীরে কমে যাবে।
বুধবার রাতে ইউএনওর সরকারি বাসভবনের ভেন্টিলেটর ভেঙে বাসায় ঢোকে দুর্বৃত্তরা। এরপর ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী শেখকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। ওই ঘটনায় ইউএনওর ভাই শেখ ফরিদ বৃহস্পতিবার রাতে ঘোড়াঘাট থানায় মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে দিনাজপুর ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে। ওই হামলায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার দেখানো হলেও বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে র্যাব শুরুতেই আসাদুল ইসলাম, রংমিস্ত্রি নবীরুল ইসলাম ও সান্টু রায়কে গ্রেফতার করে। পরে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, ওই তিনজন হামলার দায় স্বীকার করেছে।
আসাদুলকে প্রধান আসামি উল্লেখ করে র্যাব জানায়, চুরি করতে গিয়ে দেখে ফেলায় তারা হামলা চালিয়েছে। তবে হামলার মোটিভ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে অধিকতর তদন্ত করা হবে। এরপরই মামলার তদন্তভার ও তিন আসামিকে জেলা ডিবি পুলিশের কাছে ন্যস্ত করা হয়।
দিনাজপুর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ইমাম জাফর বলেন, তিন আসামির মধ্যে শনিবার নবীরুল ও সান্টুকে ও রোববার আসাদুলকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা কিছু তথ্য দিয়েছে। সেসব তথ্য যাচাই ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আসাদুলসহ অন্য আসামিরা চুরি করতে গিয়ে হামলার দাবি করলেও এখনই তা আমলে নেয়া হচ্ছে না। বিষয়টি তদন্তের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইউএনও ওয়াহিদা খানম সরকারি কাজ করতে গিয়ে কারো শত্রু হয়েছিলেন কিনা ও হামলার পেছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা রয়েছে কিনা তাও তদন্ত করা হচ্ছে।