ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ভাইকে ফাঁসানোর জন্য কেয়ারটেকারের স্ত্রীকে দিয়ে ধর্ষণচেষ্টার মামলা

মাগুরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৩:২৭, ১২ নভেম্বর ২০২০
ভাইকে ফাঁসানোর জন্য কেয়ারটেকারের স্ত্রীকে দিয়ে ধর্ষণচেষ্টার মামলা
মহম্মদপুর থানা, মাগুরা

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভাইকে ফাঁসাতে কেয়ারটেকারের স্ত্রীকে দিয়ে ধর্ষণচেষ্টার মামলা সাজিয়েছে দুই ভাই। বিষয়টি এলাকায় সমালোচিত হলে ওই স্ত্রীর স্বামী সাংবাদিকদের কাছে সব জানান। এছাড়া মামলার সব স্বাক্ষীও এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ধোয়াইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। 

ওই কেয়ারটেকার জানান, ধোয়াইল গ্রামের আবদুল বারিক মোল্যার ছেলে আরিফ রেজার সঙ্গে অন্য দুই ভাই আবুল কালাম সামছুদ্দিন ও হানিফুজ্জামানের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আবুল কালাম সামছুদ্দিন ও হানিফুজ্জামান স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঢাকা এবং মাগুরাতে থাকেন। তাদের দুই ভাইয়ের বাড়িতে কেয়ারটেকার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দেখাশুনা করে আসছি। আমার স্ত্রীও ওই বাড়ি দেখাশুনা করে। সামছুদ্দিন ও হানিফ আমাদের দিয়ে ফাঁসানোর জন্য আরিফের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেছে। এ মামলায় আমাকে স্বাক্ষীও করা হয়েছে।

এদিকে মামলার অন্য স্বাক্ষী কুদ্দুস মোল্যার ছেলে বাবু, আবু বক্কারের ছেলে সেলিম ও আমিন ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। তারা জানান, কিছুদিন আগে পুলিশ আসছিল, তখন আমরা জানতে পারি আমাদের স্বাক্ষী করা হয়েছে। আসলে ঘটনাটি বাস্তব না। মিথ্যা একটি ঘটনা।

Advertisement

জানা যায়, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনে ওই কেয়ারটেকারের স্ত্রী মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে গত ১৯ অক্টোবর একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় ওই নারী জানান, আমি বিভিন্ন বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করি। তিন বছর আগে আরিফ রেজা দম্পতির বাড়িতে কাজ করতাম। আরিফ রেজার লোলুপ দৃষ্টি আমার ওপর পড়লে এবং কুপ্রস্তাব দিলে আমি প্রত্যাখান করে মান-সম্মানের ভয়ে কাজ ছেড়ে দেই। পরে আবুল কালম সামছুদ্দিন ও হানিফুজ্জামান দুই ভাইয়ের বাড়িতে আমার স্বামী কেয়ারটেকারের কাজ করে। আমিও তার সঙ্গে বাড়ির দেখাশোনা করি।

গত ১৪ অক্টোবর বিকেলে আমাকে একা পেয়ে আরিফ রেজা পিছন থেকে এসে জাপটে ধরেন এবং মুখ চেপে ধরেন। পরে আবুল কালাম সামছুদ্দিনের রান্নাঘরের মধ্যে নিয়ে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আরিফের ডান হাতে কামড় দিলে ছেড়ে দেন। আমি কান্নাকাটি করতে থাকলে বলে কাউকে কিছু বললে বা কান্নাকাটি করলে তোর মুখে এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেব এবং তোর স্বামীকেও মেরে ফেলবো।

পরে আমার স্বামী ও ১ নম্বর স্বাক্ষীকে দেখতে পেয়ে তিনি দ্রুতগতিতে পালিয়ে যান। তার স্ত্রীও এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন। আমি ঘটনাটি স্বামীকে জানাই। আসামিরা আমার স্বামীকেও খুন জখমের হুমকি দিতে থাকে। মহম্মদপুর থানায় মামলা করতে গেলে তারা মামলা নেয়নি।

এ ব্যাপারে মহম্মদপুর থানার ওসি তারক বিশ্বাস জানান, এরকম কোনো বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে কেউ আসেনি। এলে আমরা মামলা নিতাম।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক ফকির জানান, আরিফ রেজা একজন ভালো লোক। তিনি এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারেন না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!