রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভাসানচর থানা পুলিশের কাছে উদ্ধার হওয়া শিশুটির মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। তবে এখনো ২৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজরা হলেন- ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সেতারা বেগম (২৬), হেদায়েত উল্লাহ (৪), হামিদা (৩০) ও তার মেয়ে রশিদা (১১), এনা উল্লাহ (৭), পরমিন (৩), সুপাইরা (৮), কিসমত আরা (৬), ফেরদৌস (৫), সকিনা (৪), নুর আয়শা (৩ মাস), আবুল বাসার (৯), তসলিমা (৬), নুর কালিমা (২), লাইলী (২০), মোস্তাকিম (৪), ঈমান হোসেন (১১), রফিক (২৭), মিনার বেগম (২৫), নবী হোসেন (৭), রাজুমা (৫), আব্দুল হাফেজ (১০), নুর হাফেজ (৭), নুর কামাল (৫), ইমরান হাসানসহ (৪ মাস) ২৫ জন।
.png)
ভাসানচর থানার ওসি মো.রফিকুর ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া মৃত শিশু আবুল হাফেজের বয়স ১০ বছর। সে ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৫৪ নম্বর ক্লাস্টারের কে-৭ নম্বর কক্ষের বাসিন্দা আমির হামজার ছেলে। এর আগে শনিবার রাতে নিখোঁজ আবদুর রহমানকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীরহাট এলাকা থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন ক্লাস্টার থেকে ইঞ্জিনচালিত একটি মাছ ধরার ট্রলারে পালিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন ৪১ জন রোহিঙ্গা নারী ও শিশু। রাত আনুমানিক ২টার দিকে চট্টগ্রামের বঙ্গোপসাগর এলাকায় পৌঁছার পর ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি উল্টে যায়। এ সময় রোহিঙ্গাদের চিৎকারে আশপাশের জেলেরা এসে ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। বাকিরা স্রোতের তোড়ে ভেসে যান। উদ্ধার হওয়া আহত রোহিঙ্গাদের নিয়ে জেলেরা শনিবার সকালে ভাসানচর ক্যাম্পে পৌঁছে দেন।
জীবিত উদ্ধার হওয়া ২৩ নম্বর ক্লাস্টারের সানামুল্লা ও ইয়াসমিন জানান, রাতে বৈরী আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে ভাসানচর থেকে মাছ ধরার ট্রলারে চট্টগ্রাম পালিয়ে যাচ্ছিলেন তারা। হালকা গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে পলিথিনের নিচে নারী ও শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। হঠাৎ প্রবল গতিতে বাতাস এলে তাদের ট্রলারটি উল্টে যায়। নিখোঁজদের ১৫-১৬ জন শিশু ছিল।
নোয়াখালীর ডিসি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, নিখোঁজদের মধ্যে জীবিত অবস্থায় এক যুবককে শনিবার রাতে ও মৃত অবস্থায় এক শিশুকে রোববার বিকালে উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ রোহিঙ্গাদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।