শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা খবর পেয়ে কয়েকটি বাল্যবিয়ে বন্ধও করেছেন। পরবর্তীতে অভিভাবকরা গোপনে অথবা বয়স বাড়িয়ে তাদের মেয়েদের বিয়ে দেন। দারিদ্র্য ও দুর্ঘটনা এড়াতে অভিভাবকরা এ কাজ করেছেন বলে জানান শিক্ষকরা।
শিক্ষা অফিস সূত্র জানিয়েছে, এ উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নে ১৭০টি সরকারি প্রাথমিক, ৫৫টি মাধ্যমিক, তিনটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আটটি কলেজ, ১৪টি মাদরাসা রয়েছে। প্রাথমিকে প্রায় ৪০ হাজার, উচ্চ মাধ্যমিকে ৩৯ হাজার ১৯২, কলেজে আট হাজার ৭৫২ ও মাদরাসায় তিন হাজার ৭৭৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
.png)
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্কের জেরে মির্জাপুর সরকারি সদয় কৃষ্ণ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর সম্প্রতি বিয়ে হয়েছে। এছাড়া ২০২১ সালের একজন ও ২০২২ সালের পাঁচজন এসএসসি পরীক্ষার্থীর বিয়ে হয়েছে। মির্জাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছয়জন, ২০২১ সালের ৩৪ জন ও ২০২২ সালের ২০ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পরও এ দুই প্রতিষ্ঠানের অনেক ছাত্রীই ক্লাস করছে।
এদিকে, দেওহাটা এ জে উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণির একজন, নবম শ্রেণির চারজন, ২০২১ সালের আটজন ও ২০২২ সালের ১৩ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর বিয়ে হয়েছে বলে প্রধান শিক্ষক মো. খোরশেদ আলম জানিয়েছেন। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত গেড়ামাড়া গোহাইলবাড়ি সবুজ সেনা উচ্চ বিদ্যালয়ে গত দেড় বছরে ষষ্ঠ শ্রেণির চারজন, সপ্তম শ্রেণির ৯ জন, ২০২১ সালের ১৯ জন ও ২০২২ সালের ৯ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর বিয়ে হয়েছে।
এছাড়া, মির্জাপুর উপজেলা সদরের আফাজ উদ্দিন দারুল উলুম দাখিল মাদরাসায় গত দেড় বছরে অষ্টম শ্রেণির একজন ও নবম শ্রেণির চারজন ছাত্রীর বিয়ে হয়েছে। একই অবস্থা উপজেলার ৬৬ নম্বর বাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গত দেড় বছরে অষ্টম শ্রেণি পাশ তিন শিক্ষার্থীর বিয়ে হয়েছে।
আফাজ উদ্দিন দারুল উলুম দাখিল মাদরাসার সুপার মোহাম্মদ ফজলুল করিম বলেন, বাল্যবিয়ের অন্যতম কারণ দারিদ্র্য। করোনায় অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। সংসার চালানো ও ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ মেটাতে হিমশিমে খেতে হয়েছে তাদের। এ কারণে অনেক অভিভাবক কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন।
মির্জাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সুলতান উদ্দিন বলেন, দেড় বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অভিভাকরা অনিশ্চয়তায় ভুগছিলেন। মেয়েরা বাড়িতে অলস বসে থেকে হতাশায় দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে এমন চিন্তা থেকে অনেক অভিভাবক কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। আবার বিয়ে হলেও অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে ক্লাস করছে।
মির্জাপুরের ভাতগ্রাম ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. ফরিদ হোসাইন বলেন, অপ্রাপ্ত ছেলে-মেয়ের বয়স বৃদ্ধির মাধ্যমে বিয়ের বৈধতা নেই। তবে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি সাপেক্ষে নিকাহ রেজিস্ট্রি করানো যায়। আমি গত দেড় বছরে একটি বাল্যবিয়েরও রেজিস্ট্রি করিনি।
মির্জাপুরের ইউএনও মো. হাফিজুর রহমান বলেন, বাল্যবিয়ের খবর পেলেই আমরা উপস্থিত হয়ে ওই বিয়ে বন্ধ করি। গত দেড় বছরে এ উপজেলায় কতজন শিক্ষার্থী বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে তার তালিকা করা হচ্ছে।