বিয়ের পর তাহমিনার পরিবার থেকে যৌতুকের নগদ টাকা, গরু-ছাগল ও আসবাবপত্রসহ মিলে ১০ লাখ টাকা দেয় সাগরকে। অন্য মেয়ের সঙ্গে স্বামীর পরকীয়ায় আরো টাকার চাহিদা ও সীমাহীন নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে স্বামীর বিরুদ্ধে বিচার চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন গৃহবধূ তাহমিনা আক্তার।
ভুক্তভোগী তাহমিনা আক্তার শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রুপনারায়নকুড়া ইউপির নিজপাড়া গ্রামে কৃষক মোস্তাফা রুমির কন্যা। স্বামীকে যৌতুকের দাবি মেটাতে না পেরে বর্তমানে বাবার বাড়িতে দিন কাটাচ্ছে।
.png)
জানা গেছে, ৮ বছর আগে উপজেলার বাঘবেড় ইউপির শিমুলতলা গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে রফিকুল ইসলাম সাগরের সঙ্গে রুপনারায়নকুড়া ইউপির নিজপাড়া গ্রামের কৃষক মোস্তাফা রুমির কন্যা তাহমিনা খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের ৮ বছরের দাম্পত্য জীবনে এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে।
আরো পড়ুন >>> অপহরণের পর নারীর সঙ্গে মাদরাসা শিক্ষকের আপত্তিকর ছবি-ভিডিও, আটক ৩
কয়েক বছর আগে তার স্বামী সাগর ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করার কারণে তার সঙ্গে এক মেয়ের সঙ্গে পরকীয়ার সর্ম্পক গড়ে উঠে। সেই সর্ম্পকের সূত্র ধরেই তাহমিনা ও সাগরের মধ্যে শুরু হয় সাংসারিক দ্বন্দ্ব। স্বামী সাগর তাহমিনার বাবার বাড়ি থেকে আরো বেশি টাকা আনার শর্ত জুড়ে দেয়। নিরুপায় তাহমিনার দরিদ্র কৃষক পরিবার আর কোনো টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে সাগর তাহমিনার ওপর শুরু করে নির্মম শারীরিক নির্যাতন।
এক পর্যায়ে তাহমিনা প্রতিবাদ করলে তাহমিনাকে নির্যাতন করে দুই সন্তানসহ বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয় সাগর। এ নিয়ে তাহমিনা ৪ মাস আগে শেরপুর আদালতে মামলা দায়ের করে। আদালত তাহমিনার সঙ্গে সাগর সংসার করবে মর্মে আদালতে সিদ্ধান্ত দেয়। উভয়ে তারা পুনরায় সংসার জীবনে শুরু করে। এতে সাগর আবারো যৌতুকের টাকার দাবি করে ও চাপ দেয় তাহমিনাকে। দরিদ্র কৃষক পরিবারের মেয়ে তাহমিনা সেই টাকা জোগাড় করতে পারেনি। নির্যাতনের ফলে তাহমিনা অসহায় দুই সন্তান নিয়ে তাহমিনা বাবার বাড়ি চলে যায়।
এ ব্যাপারে তাহমিনার আইনজীবী আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, যৌতুকের টাকার জন্য শারীরিক নির্যাতন, দুই সন্তানের ভরণপোষণের আবেদন ও সাগরের পরকীয়ার ব্যাপারে আদালতে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে শেরপুর আদালতে তাহমিনা মামলা দায়ের করেছেন।