টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌর এলাকায় দেড় লাখ টাকায় এক মাদরাসা ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনা মীমাংসা করেছেন স্থানীয় মাতাব্বররা। অভিযুক্ত মাদরাসা পরিচালককে বাঁচাতে জরিমানা করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার দুপুরে চিনামুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শালিসে এলেঙ্গা পৌর মেয়র নুর-এ-আলম সিদ্দিকীর উপস্থিতিতে দেড় লাখ টাকায় রফা করেন স্থানীয় মাতব্বররা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এলেঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মতিয়ার রহমান খান বাবলু।
.png)
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চিনামুড়া গ্রামের রওজাতুল জান্নাত মহিলা মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে বুকে জড়িয়ে ধরে চুমু দেন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তুলা মুন্সী। পরে ঘটনাটি ঐ ছাত্রী তার মাকে জানান। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে একটি মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ছাত্রীর পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। মাদরাসা ছাত্রীর পরিবার অসহায় ও দুর্বল হওয়ায় শালিসি বৈঠকে তাদের কথা মেনে নেয়া ছাড়া আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেননি।
কাউন্সিলর মতিয়ার রহমান খান বলেন, শালিসে অভিযুক্ত মাদরাসা পরিচালক তোফাজ্জল হোসেনকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মাদরাসাটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তুলা মুন্সীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
স্থানীয় একাধিক মাতব্বররা জানান, শিক্ষক জাতির মেরুদণ্ড। তাদের দ্বারা ছাত্রী উত্যক্তের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযুক্তকে আইনের আওতায় না দিয়ে জরিমানার বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ তারা।
এলেঙ্গা পৌরসভার মেয়র নুর-এ-আলম সিদ্দিকী বলেন, মাদরাসার পরিচালক ওই ছাত্রীকে নানাভাবে উত্যক্ত ও যৌন নির্যাতন করায় তাকে শালিসি বৈঠকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও মাদরাসাটিও বন্ধ করে দেওয়া সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আইনি ব্যবস্থা কেন নেয়া হয়নি এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ছোট একটা শিশুর কলঙ্ক আর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশের আলম জানান, বিষয়টি আমি জানি না, জেনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।