ইউপি মেম্বার হওয়া এবং এসএসসি পাস করায় আনন্দের বন্যা বইছে তার পরিবারে। আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়ও। সবার প্রশংসায় ভাসছেন এ জনপ্রতিনিধি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চতুর্থ ধাপে ২৬ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নে ভোট হয়। এতে ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেম্বার নির্বাচিত হন মো. রফিকুল ইসলাম। গত বৃহস্পতিবার নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে শপথ নিতে যান। একই দিন এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। শপথ নেয়ার অনুষ্ঠানে বসেই জানতে পারেন তিনি জিপিএ-৪.৪৬ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
.png)
আরো পড়ুন: নিজ এলাকায় ইতিহাস গড়লেন চেয়ারম্যান
পারিবারিক সূত্র জানায়, ৪৫ বছর আগে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন রফিকুল ইসলাম। অষ্টম শ্রেণি পাস করার পর তার শারীরিকগত কিছু সমস্যা দেখা দেয়। ফলে তিনি আর পড়াশোনা করতে পারেননি। ২০১৬ সালে তার ওয়ার্ড থেকে মেম্বার পদে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন। এর আগেও দুবার তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়ে হেরে যান।

এলাকার জনপ্রতিনিধি হওয়ায় রফিকুল ইসলামের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে। ২০১৮ সালে ছনকান্দা ড. আবুল হোসেন ইবনে সাঈদ কারিগরি বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তার ছেলে আব্দুল্লাহ আল মারুফ আছিম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। বাড়িতে বাবা-ছেলে একসঙ্গে পড়ার টেবিলে বসেন। দুজনের স্কুল কাছাকাছি হওয়ায় বিদ্যালয়ে একসঙ্গে যাতায়াত করতেন। গ্রামের মানুষ তা দেখে ভর্ৎসনা করতো। কিন্তু তাতে রফিকুল থেমে থাকেননি। তিনি তার লক্ষ্যে পৌঁছেছেন। এসএসসি পাসের খবর শুনে এখন তার কর্মী-সমর্থকসহ গ্রামের মানুষও আনন্দিত।
আরো পড়ুন: প্রাইভেটকারে যাত্রীর আসনে তিন গরু!
এ বিষয়ে ইউপি মেম্বার রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি এর আগেরবারও ইউপি মেম্বার পদে নির্বাচন করে এলাকাবাসীর সেবা করেছি। এ বছর এলাকাবাসীর ব্যাপক সমর্থনে আবারো নির্বাচন করেছি। মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। মানুষের সেবার পাশাপাশি আমি ভোকেশনাল কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম। আল্লাহ রহমত ও মানুষের দোয়ায় এসএসসি পাস করেছি। আমি কলেজে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাবো। এ জন্য আমি মানুষের দোয়া চাই।

একই এলাকার বাসিন্দা মাওলানা গোলাম মোস্তফা বলেন, রফিকুল ইসলাম খুব ভালো মনের মানুষ। তিনি ইউপি মেম্বার পদে পাস করে মানুষের জন্য কাজ করেছেন। আশা করি এবারো মানুষের জন্য কাজ করবেন। তবে এ বয়সে এসে তার এসএসসি পাসের বিষয়টি আমাকে অবাক করেছে। এতে আমরা আনন্দিত।
এ বিষয়ে ছনকান্দা ড. আবুল হোসেন ইবনে সাঈদ কারিগরি বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল রফিকুল ইসলামের। তার পড়াশোনার আগ্রহের বিষয়টি জানালে আমিই তাকে কারিগরি স্কুলে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেই। তাকে বলি লেখাপড়া করার কোনো বয়স নেই। এরপরই তিনি ভর্তি হন এবং ভালো রেজাল্ট করেন।