স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে হত্যা, প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ৩
বগুড়ায় প্রতিপক্ষের গুলিতে আহত জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ২৮ বছর বয়সী নাজমুল হাসান অরেঞ্জের মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান আসামি রাসেলসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে রাসেলকে গ্রেফতার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয় (র্যাব)। সোমবার রাত ৩টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার ফাঁপোর এলাকা থেকে আরেক আসামি খায়রুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান বগুড়া র্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মো. সোহরাব হোসেন।
রাসেল বগুড়া সদর উপজেলার মালগ্রাম ব্যাংকপাড়া এলাকার বাসিন্দা। খায়রুল মালগ্রাম ডাবতলা এলাকার বাসিন্দা।
.png)
গত বৃহস্পতিবার রাতে টিপু নামে আরেক আসামিকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার এসআই জাকির আল আহসান। টিপু মালগ্রাম কসাইপাড়া এলাকার আইনুলের ছেলে। তাকে বগুড়া শহরের কানুছগাড়ী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে গত ২ জানুয়ারি (রোববার) রাত পৌনে ৮টার দিকে বগুড়া সদরের মালগ্রাম এলাকার ডাবতলা মোড়ে পূর্ব শক্রতার জেরে অরেঞ্জের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়। ওই সময় মিনহাজ হোসেন আপেল নামে আরেক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গুলিবিদ্ধ হন।
নিহত অরেঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ছিলেন। তিনি মালগ্রাম দক্ষিণপাড়া এলাকার রেজাউল ইসলামের ছেলে। আহত আপেলও একই এলাকার বাসিন্দা। তিনি বগুড়া শহরের আট নম্বর ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি।
ছিলিমপুর (মেডিকেল) পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শামীম হোসেন জানান, সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) আহত অরেঞ্জের মৃত্যু হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আটদিন শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
আরো পড়ুন: শিশু ধর্ষণের দায়ে মাদরাসা শিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২ জানুয়ারি (রোববার) রাতে মালগ্রাম এলাকার ডাবতলা মোড়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা অরেঞ্জ ও আপেলসহ কয়েকজন মিলে আড্ডা দিচ্ছিলেন। সেখানে কয়েকটি মোটরসাইকেল যোগে হামলাকারীরা এসে গুলিবর্ষণ করতে থাকেন। হামলাকারীদের হাতে ধারালো অস্ত্রও ছিল। তারা প্রায় ৬-৭ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করেন। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা অরেঞ্জ ও আপেল গুলিবিদ্ধ হন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাদেরকে উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতালে নেন স্বজনরা। এ সময় আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছিলেন অরেঞ্জ। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জেরে অরেঞ্জ ও আপেলের ওপর হামলা চালানো হয়।
ঐ রাতেই এ ঘটনায় মামলা করেন নাজমুল হাসান অরেঞ্জের স্ত্রী স্বর্ণালি আক্তার। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে আরও চার থেকে পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাকির আল আহসান জানান, অরেঞ্জের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার দুপুরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার স্ত্রীর করা মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে অর্ন্তভুক্ত হবে।
বগুড়া র্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মো. সোহরাব হোসেন জানান, ঢাকায় র্যাবের একটি দল অভিযান চালিয়ে সোমবার রাত ১০টার দিকে রাসেলকে গ্রেফতার করে। তাকে বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হবে।