বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভাঙচুরের এ তাণ্ডবলীলা চালানো হয়। এ সময় ১৫ থেকে ২০টি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে এসআই আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
জানা যায়, পূর্ব ফাদ্রাইল গ্রামে ১৯৮৪ সালে গ্রামবাসীর উদ্যোগে ‘পূর্ব ফান্ডাইল জামে মসজিদ’র প্রতিষ্ঠা হয়। এরপর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অনুদান ও গ্রামবাসীর সহযোগিতা অব্যাহত থাকে। সম্প্রতি লন্ডন প্রবাসী সাইফুল ইসলাম সেফুল মসজিদটির নাম পরিবর্তন করে তার বাবার নাম ব্যবহার করার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে একই গ্রামের তাউস মিয়া ও গাউছ মিয়াসহ তাদের লোকজনের সঙ্গে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ১০ জানুয়ারি রাত ১টার দিকে ফান্ডাইল গ্রামের পাচপীরের মাজারে ওরস চলাকালে দু’পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে একজন নিহতসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। নিহত আফজাল চৌধুরী ওই গ্রামের জামাল উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে।
.png)
আরো পড়ুন: ‘স্বামী হত্যার বিচার না পেলে আমি আত্মহত্যা করব’
এ হত্যাকাণ্ডের জেরে বুধবার প্রতিপক্ষের পুরুষশূণ্য বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের তাণ্ডবলীলা চালানো হয়। এ সময় সাধন চৌধুরী, শাহাজাহন চৌধুরী, তাউস চৌধুরী, গাউছ চৌধুরী, আওয়াল চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, আবদাল চৌধুরী, জাহির চৌধুরী, সামছুল চৌধুরী, হাজী ইমন চৌধুরী ও কালো চৌধুরীসহ তাদের অন্তত ১৫ থেকে ২০ জনের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিহত আফজাল চৌধুরীর ভাই তজল মিয়া চৌধুরী। তিনি বলেন, এমনিতেই আমাদের ভাইকে হারিয়ে শোকে কাতর। তারপর আমাদের অধিকাংশ লোকজন ও আত্মীয়-স্বজন আহত হয়ে সিলেটে চিকিৎসাধীন। তাই হত্যা মামলার কাউন্টার মামলা দিতেই প্রতিপক্ষরা নিজেরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে সরেজমিনে গিয়ে ভাঙচুরকৃত বাড়িঘরে কোনো পুরুষকেই পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে কোর্টস্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আব্দুর রহিম জানান, খবর পাওয়া মাত্রই আমরা ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখি বেশকিছু বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে আমরা সেখানে যাওয়ার পূর্বেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলেও জানান তিনি।