ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

হত্যার সময় দেখে ফেলায় মেয়েকে অপহরণ-গুম, বাবার যাবজ্জীবন

রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:৪৫, ২৬ জানুয়ারি ২০২২
হত্যার সময় দেখে ফেলায় মেয়েকে অপহরণ-গুম, বাবার যাবজ্জীবন
ফাইল ছবি

নিজ মেয়েকে অপহরণ ও গুম করার অপরাধে পিতা লুৎফর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছে আদালত। বুধবার দুপুরে রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-২ এর বিচারক রোকনুজ্জামান এ রায় প্রদান করেন। 

দীর্ঘ ১৯ বছর পর মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অপহরণ ও গুমের শিকার রংপুরের পীরগাছা উপজেলার মকরমপুর গ্রামে রাবেয়া বেগমর স্বামী ও সন্তানেরা।
  
আদালত সূত্র ও মামলার বিবরণে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে রাবেয়া খাতুনের চাচা শ্বশুর হাছেন আলীকে হত্যা করে তার বাবা লুৎফর রহমানসহ অন্যান্যরা। এ ঘটনায় একমাত্র সাক্ষী হলেন তার মেয়ে রাবেয়া খাতুন। ঘটনার পর রাবেয়া খাতুন অনেকবার তার বাবা লুৎফর রহমানকে বলেছেন, তার সামনে হাছেন আলীকে হত্যা করা হয়েছে, এ বিষয়ে তিনি আদালতে সাক্ষ্য দেবেন।

এরপর থেকে বাবা লুৎফর রহমান তার মেয়ে রাবেয়াকে হত্যার নানা পরিকল্পনা করতে থাকেন। ২০০৩ সালে ২০ এপ্রিল কৌশলে তার মেয়ে রাবেয়াকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য পীরগাছা চৌধুরানী বাজারে ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান। সেখানে তার বেশ কয়েকজন সহযোগী ছিলেন। কিন্তু রাবেয়া তার বাবার কৌশলটি বুঝতে পারেন। এ সময় তিনি চিৎকার করতে থাকলে লুৎফর রহমান তার মেয়ে রাবেয়াকে বাসায় নিয়ে আসেন। এর এক মাস পর রাবেয়া বেগমের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় রাবেয়ার ছেলে রাঙ্গা মিয়া থানায় অভিযোগ দেন। 

Advertisement

আরো পড়ুন: খুলনায় রিভলবার-গুলিসহ বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার

মায়ের কোনো সন্ধান না পেয়ে পীরগাছা থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ না করায় আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করেন। বিচারক মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেন। 

তদন্ত শেষে লুৎফর রহমানসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। মামলায় ১৪ জনের সাক্ষ্য ও জেরা শেষে আসামি লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেয় আদালত। জরিমানার অর্থ নিহত রাবেয়ার ছেলে রাঙ্গাসহ তার সন্তানদের প্রদান করার আদেশ দেন। 

সরকারপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী নারী ও মিশু নির্যাতন দমন আদালত-২ এর বিশেষ পিপি জাহাঙ্গীর হোসেন তুহিন অ্যাডভোকেট রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!