শুক্রবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা পুলিশের সামাজিক যোগাযোগ পেজে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এসব তথ্য জানানো হয়। হত্যার ঘটনায় দুইজন গ্রেফতার হলেও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একজনের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এর আগে বৃস্পতিবার দুপুরে শিবপুরের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শ্রীফুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার সড়কের পাশ থেকে গাড়িচালক রুবেল ও জাহাঙ্গীরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
.png)
এদিকে গাড়ি ছিনতাইয়ের পর পুলিশের সহায়তা চেয়েছিল ছিনতাইকারীদের হাত থেকে প্রাণে বেঁচে আসা শাহাজালাল ও তার নেতারা।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা হলেন রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে সোহেল মিয়া (৩২) ও তার ভগ্নিপতি বিল্লাল হোসেন (৩০)।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, বিভিন্ন সূত্র থেকে পুলিশ নিশ্চিত হয়, পূর্ব পরিচয়ের সূত্রধরে বুধবার রাতে রুবেল মিয়া নামে এক যুবক রেন্ট-এ-কারের চালক শাহজালালকে ফোন করে মাধবদীতে একটি ট্রিপ থাকার কথা জানান। পরে রুবেল, শাহজালাল ও জাহাঙ্গীর একত্র হন। তারা তিনজন রেন্ট-এ-কারের চালক। তিনজনের সঙ্গে ঐ রাতেও প্রাইভেটকার ছিল। মাধবদী না গিয়ে তারা রায়পুরার খলাপাড়া এলাকায় যায়। সেখানেই কৌশলে মূল হোতা সোহেল ও তার সহযোগিরা তিনটি প্রাইভেটকার ছিনতাই করে। এরপর মাদকের অর্থের ভাগ-ভাটোয়ারা নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সোহেল ও তার সহযোগিরা শ্বাসরোধ করে রুবেল ও জাহাঙ্গীরকে হত্যা করে। শাহজালাল ও অন্যরা কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
জোড়া খুনের পর বৃহস্পতিবার সকালে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে থাকেন সোহেল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সোহেল শ্বশুরবাড়িতে ছিলো। পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ৬ রাউন্ড গুলি, ৫২০টি ইয়াবাসহ উদ্ধার করা হয় তিনটি প্রাাইভেটকার ও বেশ কিছু আলামত।
পলাশ মাইক্রোস্ট্যান্ডের চালকদের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বুধবার গাড়ি ভাড়া নিয়ে চালক শাহাজালালকে মারপিট করে তার গাড়িটি ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। সেখান থেকে পালিয়ে এসে শাহাজালাল আমাদের জানানোর পর আমরা বুধবার রাতেই পুলিশের কাছে গাড়ি ছিনতাইয়ের বিষয়টি জানাই। একই সঙ্গে পুলিশের সাহায্য কামনা করেছি। তখন পুলিশ যদি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতো তাহলে হয়তো চালক দুইজন প্রাণে বেঁচে যেতেন।
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান বলেন, জোড়া খুনের ঘটনায় জড়িত থাকায় সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, ৫২৫টি ইয়বা ও ছিনতাই হওয়া তিনটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। সোহেলের বিরুদ্ধে রায়পুরা ও ঢাকার বাড্ডা থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।