এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে প্রেমিক মাছুম বিল্লাহসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মেয়েটি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অভিযুক্ত মাছুম বিল্লাহ তালা উপজেলার শ্রীমন্তকাটি গ্রামের মোমতাজ গাইনের ছেলে। তিনি অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার তিন সহযোগী হলেন- দরগাপুর গ্রামের সাহেদ বাবু, রশিদ ও শাহিনুর রহমান।
.png)
জানা গেছে, ভুক্তভোগী মেয়েটি স্থানীয় একটি স্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা-মা ইটভাটায় কাজ করেন। ২০১৯ সাল থেকে মাছুম বিল্লাহ বিভিন্ন মাধ্যমে মেয়েটিকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
স্কুলছাত্রী জানায়, পুলিশে চাকরি করার স্বপ্ন ছিল তার। সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করছিল। তার বাবা-মা ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করেন। মাছুম বিল্লাহর বাবার ফার্মেসির দোকান রয়েছে। নিজেদের পারিবারিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় সম্পর্কটি স্থায়ী হবে না ভেবে সম্পর্কটি ছিন্ন করার চিন্তা করে মাসুমকে জানিয়ে দেন।
ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, ৬ মাস আগে মাছুম শেষবারের মতো দেখা করার কথা জানালে শ্রীমন্তকাটিতে তার চাচার বাড়িতে দেখা করি। সেখানে আমাকে ধর্ষণ করে ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য হুমকি দেয় মাছুম। কাউকে বলার সাহস পায়নি। স্কুলে যেতেও বাধা সৃষ্টি করছিল। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হুমকি দিয়ে আসছিল। বিভিন্ন সময় ভয় দেখিয়ে আমার সঙ্গে অনৈতিক কাজ করেছে।
স্কুলছাত্রী বলেন, আমার বাবা-মা ইটভাটায় কাজ করছে জেনে গত ৩০ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটার দিকে আমাদের বাড়িতে আসে মাছুম বিল্লাহ। তারপর আমাকে ঘরের মধ্যে নিয়ে অনৈতিক কাজ করে। এরপর একে একে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে সাহেদ বাবু, রশিদ ও শাহিনুর। তারা আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। বাধা দিলে আমাকে চড়, কিল, ঘুষিসহ কামড়ে দেয় শরীরের বিভিন্ন স্থানে। চিৎকার করলে পাশের লোকজন ছুটে আসে। এ সময় তারা পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী বলেন, আমার মাকে মা ডাকতো মাছুম বিল্লাহ। সে আমার জীবন নষ্ট করে দিল। আমি তার শাস্তি চাই।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাছুম বিল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার ব্যবহৃত তিনটি ফোন নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়।
আশাশুনি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোমিনুল রহমান বলেন, এ ঘটনায় মেয়েটির মা বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মেয়েটি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।