ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

রায়পুরায় আধিপত্য নিয়ে ৪০ বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৪৭, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২
রায়পুরায় আধিপত্য নিয়ে ৪০ বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি: ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে ৪০টি বসতঘরে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে প্রতিপক্ষ। উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের গৌরীপুর পাঠান বাড়ির এলাকায় শুক্রবার বিকেলে ও শনিবার ভোরে দুই দফায় এ হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গত ২৮ নভেম্বরের ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। তখন মো. হোসেন ভুইয়ার সমর্থক মোল্লাবাড়ি ও সানাউল্লাহ ভুইয়ার সমর্থক পাঠানবাড়ির লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এরই জেরে বিজয়ী চেয়ারম্যান হোসেন ভুইয়া সমর্থক মোল্লাবাড়ি ও পরাজিত চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ ভুইয়ার সমর্থক পাঠানবাড়ির লোকজনের মধ্যে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনার জেরে শুক্রবার বিকেলে প্রথম দফায় এবং শনিবার ভোরে দ্বিতীয় দফায় পাঠানবাড়ির লোকজনের অন্তত ৪০টি বসতঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায় খোদাবক্স ও মোল্লা বাড়ির লোকজন।

ক্ষতিগ্রস্তের শিকার খোশেদা বেগম, আপেল মিয়ার স্ত্রী হাফেজা বেগম, সেলিম মিয়ার স্ত্রী শেফালি আক্তার, জামাল মিয়ার স্ত্রী লিপি বেগম, রুবেল মিয়ার স্ত্রী নাহিদা আক্তার, আল-আমিনের স্ত্রী প্রিয়া আক্তারসহ আরো অনেকেই জানান, বর্তমান চেয়ারম্যান সমর্থক আল মামুনের নির্দেশে খোদাবক্স ও মোল্লা বাড়ির লোকজন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে তাদের অন্তত ৪০টি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। এ সময় হামলাকারীরা ঘরের ভেতর থেকে অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। 

Advertisement

এদিকে অভিযুক্ত আল মামুনের সঙ্গে কথা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে যে তুচ্ছ ঘটনা ঘটেছিল সেখানে আমাদের কিছু লোকজন জড়িত ছিল, কিন্তু আজকের ঘটনার সঙ্গে আমি এবং আমার লোকজন জড়িত নই। তবে পাঠান বাড়ির লোকজন মোল্লা বাড়ির মোশারফকে ছুরিকাঘাত করে। পরে হয়তো বা তারা এসব ঘটিয়েছে।

এ ব্যাপারে মোল্লা বাড়ির মো. শাজাহান মিয়া বলেন, শুক্রবার পাঠান বাড়ির কাছে মসজিদ নির্মাণের কাজে আমার এলাকার মোশারফ মিয়া নামে একজন রাজমিস্ত্রির কাজ করছিল। তুচ্ছ ঘটনায় তাদের মধ্যে কথাকাটির একপর্যায়ে মোশারফকে ছুরিকাঘাত করে আহত করেন। পরে তারাই আবার পার্শ্ববর্তী তুলাতলী থেকে লোকজন এনে এলাকায় আতঙ্ক সৃীষ্ট করে। এরই প্রেক্ষিতে এসব হামলা, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে রায়পুরা থানার ওসি (তদন্ত) গোবিন্দ সরকার বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পরে এ দু’পক্ষের বসতঘর ভাঙচুরের ঘটনায় উভয়পক্ষের থানায় মামলা দায়ের হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আশপাশের কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান বসে আপস মীমাংসা করেছিলেন। 
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!