ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

অশ্লীল টিকটকে বাধা দেওয়ায় গৃহবধূকে নির্যাতন

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ২১:২৫, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২
অশ্লীল টিকটকে বাধা দেওয়ায় গৃহবধূকে নির্যাতন
টিকটকে অংশ নেয়া যুবক-যুবতি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অশ্লীল টিকটকের ভিডিও ধারণ করতে বাধা দেওয়ায় এক গৃহবধুকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় ঐ গৃহবধুর এক ছেলে ও এক মেয়েকেও পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে উপজেলার লালুয়া ইউপির মুন্সিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহতাবস্থায় নির্যাতিতা গৃহবধু সামসুন্নাহার বেগমকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সামসুন্নাহার ওই গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী।

হাসপাতালের শয্যায় যন্ত্রণাসিক্ত গৃহবধূ জানান, তার বাড়ির সামনে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এক যুবতিকে নিয়ে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করছিলো স্থানীয় বখাটে আসলাম ও বেল্লাল নামে দুই যুবক। গৃহবধূর নিজ বাড়িতে যুবতি মেয়ে এবং পুত্রবধুর সামনে এমন অশ্লীল ভিডিও ধারণে প্রথমে বাধা দেন তিনি। কিন্তু বখাটেরা বাধার তোয়াক্কা না করে কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। পরে তার ছেলে ইমান হোসেন বাড়িতে ফিরলে তিনি বখাটেদের ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসলাম এবং বেল্লাল ইমানের ওপর হামল চালায়।

Advertisement

এ সময় ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ঐ গৃহবধুকে বেধড়ক পিটুনি দেয় বখাটেরা। পরে মায়ের চিৎকার শুনে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে সানজিদা এগিয়ে এলে তাকেও টিকটকধারীরা মারধর করে। বর্তমানে আহত গৃহবধূ তার ডান চোখে এবং কপালে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন নিয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত টিকটকার আসলামের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, টিকটক করা কোনো অপরাধ না। ঐ নারীর সঙ্গে কোন ঝামেলা হয়নি, যা হয়েছে তার ছেলের সঙ্গে। আমার রাগ ভাঙাতে খালাতো বোন আমার সঙ্গে টিকটক করেছে। 
কলাপাড়া হাসপাতালের চিকিৎসক ডা.ইকবাল হোসেন বলেন, গৃহবধূর ডান চোখের উপরে এবং কপালে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে পরবর্তীতে ঐ নারীকে চোখের চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

কলাপাড়া থানার ওসি মো. জসিম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!