ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

প্রেমের বিয়েতে সুখি হলেন না দিবা, মিলল ঝুলন্ত লাশ

নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০০:৫৫, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২
প্রেমের বিয়েতে সুখি হলেন না দিবা, মিলল ঝুলন্ত লাশ
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নরসিংদীর মাধবদী পৌর শহরে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে শহরের ছোট গদাইয়েরচরের স্বামীর বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

মৃত গৃহবধূ নুপুর আক্তার দিবা মাধবদী পৌর শহরের আলগী মনোহরপুর এলাকার রেজাউল করমের মেয়ে।

এদিকে, দিবার মৃত্যুর বিষয় নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে রহস্য ঘনিভূত হচ্ছে। স্বামীর বাড়ির লোকেরা বলছেন, গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন দিবা। অপরদিকে বাবা বাড়ির লোকজন বলছেন, এটি পরিকল্পিত হত্যা।

Advertisement

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাধবদী পৌর শহরের আলগী মনোহরপুর এলাকার রেজাউল করমের মেয়ে নুপুর আক্তার দিবা স্কুলে যাওয়া আসার পথে ছোট গদাইয়েরচরের মোমেন মোল্লার ছেলে রবিনে সঙ্গে পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকে প্রেম। তাদের এ প্রেম শেষ পর্যন্ত গড়ায় বিয়েতে। বছরখানেক আগে পরিবারকে না জানিয়ে তারা গোপনে বিয়ে করে।

বিয়ের পর থেকে রবিনের রূপ পাল্টে যেতে শুরু করে। বেকার রবিন ব্যবসা করার টাকা এনে দিতে স্ত্রী দিবাকে চাপ দেয়। মাসখানেক আগে দিবা শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে আসে। শ্বশুরবাড়ি যাবে না বলে বাবা-মাকে জানায়। দিবা যৌতুকের জন্য শারীরিক ও মানুসিক নির্যাতনের কথা না জানালেও অনেকটা কৌশলে তার মা জেনে যায়। পরে মেয়েকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে শ্বশুরবাড়ি পাঠান তার মা। প্রায় সময় মেয়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতেন মা। গত দুইদিন ধরে তার মোবাইল বন্ধ থাকায় মেয়ের কোনো খোঁজ পাচ্ছিলেন না। পরে রবিনের মায়ের মোবাইলে ফোনে যোগাযোগ করলে দিবার শ্বাসকষ্ট বেড়েছে বলে জানানো হয়।

গতকাল বুধবার রাতে দিবার শ্বশুরবাড়ি থেকে তার গলায় দড়ি দেওয়ার খবর পায় তারা। সেখানে যাওয়ার আগেই শুনতে পায় দিবাকে মাধবদী প্রাইম হাসপাতালে নিয়ে গেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। সেখানে গিয়ে লাশ দেখে পরিবারের লোকদের কাছে দিবা মৃত্যুর বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হয়। তারা দেখে দিবার পেট অনেকটাই ফুলে আছে এবং মুখে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

দিবার মামা ইব্রাহীম মিয়া জানান, পরিবারের লোকজনদের না জানিয়ে এক বছর আগে দিবা গোপনে রবিনকে বিয়ে করে। বিয়ের পরে আমরা সবাই তার এ বিয়ে মেনে নিলেও গত তিন মাস ধরে ব্যবসার জন্য ৭ লাখ টাকা চায় রবিন।  এজন্য দিবার ওপর মানুসিক ও শারীরিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে একদিন সে স্বামীর বাড়ি থেকে তার বাবার বাড়ি চলে আসে। পরে তাকে অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে আমরা শ্বশুর বাড়ি দিয়ে আসি। এ দিয়ে আসা যে তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে তা আমরা সেদিন বুঝতে পারিনি।

কান্নারত অবস্থায় তিনি বলেন, আমার ভাগনিটাকে সেদিন নিজের হাতে মৃত্যুপূরীতে দিয়ে এসেছি। তারা দিবাকে মেরে ফেলেছে। তরতাজা লাশের পেট কখনো ফুলে উঠে না । আমি কখনো তা দেখিনি। সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।

অপরদিকে, দিবার শ্বশুর মাধবদী বড় মসজিদের মোমেন মোল্লা জানান, গতকাল মাধবদীতে ওয়াজ হচ্ছিল। আমি আর আমার ছেলে ওয়াজ শুনতে চলে আসি। ওয়াজ চলাকালীন আমার এক ভাগনি ফোন করে দিবার আত্মহত্যার বিষয়টি জানায়।

মাধবদী থানার ওসি সৈয়দুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাধবদী থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছে। পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকেএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!