ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

দেশে মানবসম্পদের বিকল্প হবে রোবট, উৎপাদনে ঘটবে পরিবর্তন

মাসুম হোসেন, বগুড়া
প্রকাশিত: ২০:৩০, ৭ আগস্ট ২০২২
দেশে মানবসম্পদের বিকল্প হবে রোবট, উৎপাদনে ঘটবে পরিবর্তন
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নিত্যদিনের যাবতীয় প্রয়োজনীয় কাজ করবে রোবট! ডিজিটাল বিপ্লবের ছোঁয়ায় পাল্টে যাবে উৎপাদন ব্যবস্থা। ফলে মানুষকে যন্ত্র চালাতে হবে না। যন্ত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর্ম উৎপাদন করবে। কম সময়ে উৎপাদন হবে বিপুল পণ্য। যেকোনো কাজই সম্পূর্ণ হবে  নিখুঁতভাবে।

কৃষি থেকে শুরু করে চিকিৎসা, যোগাযোগ, প্রকাশনাসহ সব ক্ষেত্রেই ঘটবে পরিবর্তন। একইসঙ্গে সম্পদের অপচয় রোধ হবে। শিল্প কারখানাগুলোতে কমবে শ্রমিকের চাহিদা। কম সময়ে তৈরি হবে বিপুল পণ্য। তবে কারখানায় পণ্য উদপাদনে শ্রমিক নয়, কাজ করবে যন্ত্র। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুফল ভোগ করার জন্য আধুনিক স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হলেই ঘটবে এমন পরিবর্তন।

তবে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠী চাকরি হারাবে। এতে আশঙ্কার কিছু নেই। তৈরি হবে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র। দেশে কমবে বেকারত্ব।

Advertisement

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব হলো আধুনিক স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে চলমান উৎপাদন এবং শিল্প ব্যবস্থার স্বয়ংক্রিয়করণ। এরমাধ্যমে ইন্টারনেট অব থিংকিং (আইওটি) ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার মানবসম্পদের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। 

জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি (নেকটার) সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে তরুণের সংখ্যা প্রায় চার কোটি ৭৬ লাখ। যা মোট জনসংখ্যার শতকরা ৩০ ভাগ। আগামী ৩০ বছর ধরে তরুণ বা উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠী সংখ্যা গরিষ্ঠ থাকবে। বাংলাদেশের জন্য চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুফল ভোগ করার জন্য তরুণরাই সবচাইতে বড় ভূমিকা পালন করবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা গেছে, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠী চাকরি হারাবে। তবে তৈরি হবে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র। সেই লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এই শিল্প বিপ্লব ঘটলে কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ তৈরি ও অ্যাসেম্বলিং, সফটওয়্যার তৈরি এবং ডাটা প্রসেসিং কাজে দেশের লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আইসিটি ও সফটওয়্যার শিল্প রফতানি খাতকে আরো সমৃদ্ধ করবে। 

শিল্প বিপ্লবের সুফল ভোগে অপচয় রোধ:

কৃষিসহ শিল্প কারখানায় পণ্য উৎপাদনে বর্তমানে অনেক সম্পদের অপচয় হচ্ছে। কারণ সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব। বর্তমানে ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে জমিতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার, পানি, রোগ ও ক্ষতিকর পোঁকামাকড় নিয়ন্ত্রণে ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। কারণ জমিতে সেগুলো কী পরিমাণ প্রয়োজন তা কৃষক বা শ্রমিক বুঝতে পারেন না। ফলে তারা এগুলো প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমিতে প্রয়োগ করেন। একই কাজ যদি ড্রোন (এক ধরনের রোবট) দিয়ে করানো হয় সেক্ষেত্রে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো কিছুই ব্যবহার হবে না। এতে দেশের সম্পদের অপচয় রোধ হবে। ফসলি জমির কখন, কোথায়, কী কতটুকু প্রয়োজন তা বুঝতে পারবে রোবট। সেই হিসেবে পানি ও সারসহ প্রয়োজনীয় যেকোনো কিছু প্রয়োগ করবে। এছাড়াও শিল্প কারখানায় পণ্য তৈরিতে বিভিন্ন কারণে শ্রমিকরা কাঁচামালের অপচয় করে থাকেন। কিন্তু রোবটের কারণে সম্পদের অপচয় রোধ হবে। সম্পদের অপচয় রোধ হলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের আয় বাড়বে। একইসঙ্গে সবদিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকবে দেশ।

নেকটারের পরিচালক (উপসচিব) মো. শাফিউল ইসলাম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, জনগণের মাঝে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের গুরুত্ব তুলে ধরতে বগুড়ায় প্রথমবারের মতো রোবটিক্স অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়। দেশে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুফল ভোগ করার জন্য তরুণরাই সবচাইতে বড় শক্তি। তাদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। কৃষি, চিকিৎসা, যোগাযোগ, প্রকাশনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধুনিক স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হলে জীবনযাত্রার পরিবর্তন ঘটবে। দেশে সম্পদের অপচয় রোধ হবে। সবদিক থেকেই স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকবে দেশ।

তিনি আরো বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে দেশে বিপুল জনগোষ্ঠী চাকরি হারালেও সৃষ্টি হবে নতুন কর্মক্ষেত্র। মানুষের জীবনযাত্রার অপরিকল্পনীয় পরিবর্তন ঘটবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ট্যাগ: বগুড়া রোবট
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!