ওই কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, ২০২২ সালের ১৭ ডিসেম্বর চরভূতা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের কিশোরীকে কৌশলে রমাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়ঁচাদ বাজারে নিয়ে কথিত কাজির মাধ্যমে ভুয়া জন্মনিবন্ধন দিয়ে নোটারি করে বিয়ে সম্পন্ন করে। কিশোরী বাড়িতে এসে ঘটনাটি তার মাকে বললে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে কিশোরীর এক দাদা কালাম মেম্বার রাঁয়চাদ বাজারের কথিত ফজলু কাজির সঙ্গে যোগাযোগ করলে ঘটনার সত্যতা জানতে পারেন।
কিশোরীর দাদা ও সাবেক ইউপি সদস্য কালাম মেম্বার জানান, আমার অপ্রাপ্ত বয়স্ক নাতনিকে ভুল বুঝিয়ে এবং ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরি করে বখাটে মনির প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিয়ে করে। কারণ কিশোরীর নামে তার বাবা জমি দিয়ে গেছেন। সেই জমির লোভে মনির প্রতারণার কৌশল অবলম্বন করে বিয়ে করে। কিশোরী বর্তমানে বাংলা বাজার দাখিল মাদরাসার এ বছরের দাখিল পরীক্ষার্থী।
.png)
জানা গেছে, মনির বখাটে প্রকৃতির কিশোর। সে এলাকায় একাধিক মেয়েঘটিত কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। সে একসময় বাংলা বাজার মাহমুদিয়া দাখিল মাদরাসার ছাত্র ছিল। অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বিভিন্ন বখাটেপনা ও কেলেঙ্কারির ঘটনায় তাকে ওই প্রতিষ্ঠান আর নবম শ্রেণিতে ভর্তি করেনি।
এ ব্যাপারে বাংলা বাজার মাহমুদিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মো. মতিউল ইসলাম বলেন, অষ্টম শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় মনির বখাটে প্রকৃতির ছিল। আমাদের প্রতিষ্ঠানের মেয়েদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করতো সে। যার জন্য প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে মনিরকে আর নবম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়নি।
অভিযুক্ত মনির হোসেন জানান, ওই মেয়ের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। তার সম্মতিতেই রায়চাঁদ এলাকার ফজলু কাজির মাধ্যমে নোটারি করে বিয়ে করেছি। আর মাদরাসা থেকে আমি নিজ ইচ্ছায় চলে এসে অন্য প্রতিষ্ঠানে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছি।
এ ব্যাপারে রমাগঞ্জ ইউনিয়নের মূল কাজির সহকারী হয়েও কাজি বনে যাওয়া ফজলু জানান, বিষয়টি আমার অন্যায় হয়েছে। কারণ ছেলে-মেয়ে কারোরই বিয়ের বয়স হয়নি। এজন্য আমি ছেলেকে বিষয়টি গোপন রাখতে বলেছি। তবে ছেলে মনির বিষয়টি প্রকাশ করে দিয়েছে। এছাড়াও মেয়ের পক্ষ থেকে ছেলেকে তালাক দেওয়ায় বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।
নোটারি করা অ্যাডভোকেট ওয়াহিদুর রহমান বলেন, আমার কাছে ফজলু নামে এক ব্যক্তি এসেছিল। আমাকে ছেলে-মেয়ের পূর্ণ বয়সের জন্মনিবন্ধন দেওয়ায় তখন নোটারিটি করেছি।
ভুক্তভোগী কিশোরীর ভাই মো. হাছনাইনের দাবি, অপ্রাপ্ত বয়সে তার বোনকে প্রতারণা করে বিয়ে করায় মনির হোসেনসহ এই বিয়ের সঙ্গে জড়িত সবাইকে যেন আইনের আওতায় আনা হয়।
লালমোহন থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. এনায়েত হোসেন বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে কেউ এ ধরনের কাজ করলে তা আইনগত অপরাধ। তবে এ ঘটনায় কেউ এখনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে আমরা অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।