শনিবার সকালে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে বগুড়া পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলতলা এলাকায় দেখা গেছে এমন দৃশ্য। এখানে প্রতি ঈদের দিন সকালে মেলা বসে। ছোট্ট এই মেলা ঈদের দুপুরেই শেষ হয়ে যায়।
ফুলতলার বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের চেকপোস্ট এলাকায় সড়কের এক ধারে বসে ঈদ আনন্দ মেলা। মেলায় শিশুদের খেলনা, প্রসাধনী, মাটির তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র ও মুখরোচক খাবারের দোকান বসে। মেলাটি মূলত বাচ্চাদের প্রাধান্য দিয়ে গড়ে উঠেছে। এখানে বাচ্চাদের পছন্দের সামগ্রীর পরিমাণ যেমন বেশি তেমনি বাচ্চাদের ভিড়ও বেশি থাকে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শিশুদের কলকাকলিতে মুখরিত থাকে মেলা প্রাঙ্গন। বড়দের হাত ধরে তারা মেলায় আসে। মনমতো খেলনা কিনে হইচই করে আনন্দে বাড়ি ফেরে। এভাবে ঈদের আনন্দ পূর্ণতা পায় ফুলতলার ছেলেমেয়েদের। এই মেলা এখানে ঈদের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে।
.png)
স্থানীয়রা জানায়, তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে এখানে নিয়মিত মেলা বসে আসছে।
আড়াই বছরের মেয়ে নুশরাত জাহান লুৎফা। বাবার হাত ধরে মেলায় ঘুরছে। তাকে বিভিন্ন খেলনা কিনে দিচ্ছেন বাবা নাদিম প্রামাণিক। নাদিম ফুলতলা বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি।
জানতে চাইলে নাদিম প্রামাণিক বলেন, ঈদ উপলক্ষে আমার দুই সন্তানকে নিয়েই মেলায় এসেছি। মেলা দেখলে তারা খুব খুশি হয়।
ঈদের এ মেলায় ছোটদের খেলনার দোকান নিয়ে বসেছেন আব্দুর রহিম। তিনি বগুড়ার কাহালু উপজেলার জামগ্রামের বাসিন্দা।
তিনি জানান, পাঁচ বছর ধরে এ মেলায় ব্যবসা করে আসছেন। অল্প সময়ের এই মেলায় তার দোকানে ২০-২৫ হাজার টাকার বেচাকেনা হয়। শিশু-কিশোরেরা মেলায় এসে আনন্দ করে।
মেলায় চুরি-ফিতা ও মেয়েদের প্রসাধনীর দোকান দিয়েছেন খোকন। তিনি জেলার শাজাহানপুর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি জানান, বছর চারেক ধরে এ মেলায় বেচাকেনা করে আসছেন। এই মেলায় তার ১২ হাজার টাকার খেলনা বিক্রি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সাজু প্রামাণিক বলেন, প্রতিবছরই ফুলতলায় ঈদমেলা বসে। এই মেলাকে ঘিরে এক ধরনের ভালোলাগা কাজ করে। মাঠে ঈদের নামাজ শেষে সন্তানদের নিয়ে অনেকেই মেলাতে যান। মেলা ঘুরে বাড়ি ফেরেন তারা।
ফুলতলা বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি নাদিম বলেন, ঈদ উপলক্ষে দীর্ঘ বছর ধরে ফুলতলায় মেলা হয়ে আসছে। এখানে ব্যবসায়ীরা নিজে থেকে এসেই বেচাকেনা করেন। মেলাটি আমাদের এলাকায় ঈদ আনন্দের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।