মিলন নওগাঁ শহরের চকমুক্তার মহল্লার মৃত আব্দুল মালেক এর ছেলে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে নওগাঁ থানা-পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁ শহরের দয়ালের মোড়ের পাশে বউ বাজার এলাকায় মোজাম্মেল হকের বাসা। তবে তিনি শহরের বাসায় না থেকে গ্রামের বাড়ি জেলার মান্দা উপজেলায় বসবাস করেন। তার বাসাটি ভাড়া দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন শাশুড়ি সাজেদা বেগমকে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে মিলন ও শারমিন নামে এক মহিলা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বাসাটি ভাড়া নেন।
.png)
রাতের কোনো এক সময় মিলনকে জবাই করে হত্যা করে পালিয়ে যায় শারমিন। বাসার জানালা খোলা থাকলেও মূল দরজায় তালা দেওয়া ছিল। প্রতিবেশীরা নতুন ভাড়াটিয়ার খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য আসলেও দরজায় তালা দেখা ফিরে যান। তবে রাত ৯টার দিকে ঘরের জানালা খোলা থাকায় উঁকি দিয়ে দেখে রক্তাক্ত অবস্থায় কেউ শুয়ে আছে। পরে থানা-পুলিশে সংবাদ দেওয়া হয়। পুলিশ এসে তালা ভেঙে বাসায় প্রবেশ করে দেখে ঘরে জবাই করা মরদেহ পড়ে আছে।
বাসার মালিকের শাশুড়ির সাজেদা বেগম বলেন, বাসার দুইটা অংশ। মাঝখানে দেয়াল দিয়ে আলাদা করা আছে। একপাশে ভাড়াটিয়া আছে। অপরপাশ ফাঁকা ছিল। গতকাল দুপুরে তারা দুইজন স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে মাসিক চার হাজার চুক্তিতে ভাড়া নেয়। তাদের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র চাওয়া হলে আগামীকাল দেবে বলে জানায়। বাসা পরিস্কার করে তারা দুজনে থাকা শুরু করেন। তবে রাতের কোনো এক সময় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
বাসার মালিকের শালিকা আমেনা খাতুন বলেন, বাসার দরজায় সকাল থেকেই তালা দেওয়া ছিল। সারাদিনই কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। জানালা খোলা থাকায় রাত ৯টার দিকে উঁকি দিয়ে দেখা যায় চাদর গায়ে রক্তাক্ত অবস্থায় কেউ শুয়ে আছে। পরে থানায় সংবাদ দিলে পুলিশ এসে তালা ভেঙে বাসায় প্রবেশ করে।
নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. গাজিউর রহমান বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে প্রাথমিক অবস্থায় মরদেহের পরিচয় মিলন নামে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রকৃত পরিচয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানানো হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।