খামারিদের সংগঠন রাজশাহী পোল্ট্রি কৃষক সমিতি জানায়, একসময় এ অঞ্চলে প্রায় দুই হাজার ছোট ও মাঝারি ডিম উৎপাদনকারী খামার ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে লোকসান চলতে থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে এসব খামারের একটি বড় অংশ বন্ধ হয়ে গেছে।
রাজশাহী পোলট্রি এসোসিয়েশনের সভাপতি এনামুল হক বলেন, গত দেড় বছরে তৃণমূল পর্যায়ের খামারের সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। আগে প্রায় প্রতিটি এলাকায় খামার দেখা গেলেও এখন অনেকগুলো এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ছোট খামারগুলো ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।
.png)
খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খাদ্য, ছানা ও ওষুধের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় ডিমের বাজারদর কমে যাওয়ায় তারা টিকে থাকতে পারছেন না।
রাজশাহী শহরের খামারি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, পোলট্রি খাদ্যের প্রধান উপাদান ভুট্টা এখন প্রতি কেজি ৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে এর দাম ছিল ২৫ থেকে ২৭ টাকা। অন্যদিকে সয়াবিনের দাম ৪৯-৫২ টাকা থেকে বেড়ে ৬২ থেকে ৭০ টাকায় পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, ভুট্টা বা সয়াবিনের দাম ১ টাকা বাড়লেই প্রতি কেজি খাদ্য উৎপাদনের খরচ প্রায় ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। গত পাঁচ মাসে টানা লোকসানের কারণে আমি চার হাজার ডিম উৎপাদনকারী মুরগি মাংস হিসেবে বিক্রি করে দিয়েছি।
গোদাগাড়ী উপজেলার কালিপুর গ্রামের খামারি জিয়ারুল ইসলাম জানান, ডিমের দাম কমে যাওয়ায় শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই তিনি প্রায় এক লাখ টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তার ভাষায়, গত অক্টোবরে সাদা ডিম ৮ দশমিক ১০ টাকা এবং বাদামী ডিম ৯ দশমিক ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। এখন সেই দাম ২ থেকে ৩ টাকা কমে গেছে।
ক্ষুদ্র খামারিদের অভিযোগ, বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজার নিয়ন্ত্রণও সংকটকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।
পবা উপজেলার খামারি আতিকুর রহমান বলেন, বড় কোম্পানিগুলোর নিজস্ব হ্যাচারি ও ফিড মিল থাকায় তারা কম দামে ডিম বিক্রি করেও টিকে থাকতে পারে। কিন্তু যারা বাজার থেকে সবকিছু কিনে খামার চালান, তাদের পক্ষে এটা সম্ভব নয়।
তিনি আরো বলেন, বড় উৎপাদকরা প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ডিম বাজারে সরবরাহ করছেন,ফলে বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং ক্ষুদ্র খামারিরা ধীরে ধীরে ব্যবসা থেকে ছিটকে পড়ছেন।
রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাসুদুর রহমান বলেন, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ডিম উৎপাদন, হাঁস-মুরগি পালন থেকে শুরু করে প্রজনন পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না।
তিনি বলেন, ক্ষুদ্র পোলট্রি খামারিদের টিকিয়ে রাখতে সরকারকে নীতিগত সহায়তা, বাজার পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে হবে।