রংপুর বিভাগ দেশের সবচেয়ে অবহেলিত: এটিএম আজহারুল ইসলাম
রংপুর বিভাগ দেশের সবচেয়ে অবহেলিত অঞ্চল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, রংপুর কি বাংলাদেশের বাইরে? এই অঞ্চলে কি উন্নয়ন হবে না? তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, একটি দেশের আপত্তির কারণে সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন বন্ধ করে দিয়েছে।
শনিবার দুপুরে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বরে জেলা জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে নির্বাচিত ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যদের নিয়ে গঠিত রংপুর বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরামের ১৩ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিকেও পালিয়ে যেতে হবে। দেশের জনগণ জুলুম-অত্যাচার আর সহ্য করবে না। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, চাঁদাবাজির কারণে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ। বিএনপি আওয়ামী লীগের পথ বেছে নিয়েছে।
.png)
তিনি আরও বলেন, ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না। অযোগ্য ও দুর্নীতিপরায়ণ নেতৃত্বের কারণে দেশে অস্থিরতা বিরাজ করছে। তার দাবি, গত ১৭ বছরে দেশ থেকে ২৭ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। সরকার সংবিধানের দোহাই দিয়ে যা ইচ্ছা তা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। জনগণের শক্তির কাছে কেউ পার পাবে না বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের এই নেতা।
১৩ দফা দাবি
রংপুর বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরামের ১৩ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে:
১. তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন।
২. বড়পুকুরিয়া কঠিন শিলা দ্বিতীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন।
৩. সৈয়দপুর বিমানবন্দর আধুনিকায়ন।
৪. দ্বিতীয় যমুনা সেতু দ্রুত বাস্তবায়ন।
৫. রংপুর বিভাগের অবকাঠামোগত উন্নয়ন।
৬. বিভাগের সব উপজেলায় মহিলা কলেজ সরকারি করা।
৭. নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
৮. রংপুর বিভাগীয় শহরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।
৯. রংপুর বিভাগে গ্যাসলাইন সংযোগ ও সরবরাহ নিশ্চিত করা।
১০. ট্রেন যোগাযোগ আধুনিকায়ন ও ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো।
১১. বিভাগে শিল্প-কলকারখানা স্থাপন।
১২. সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আধুনিকায়ন এবং রংপুর মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা।
১৩. বিভাগের সব জেলা শহরকে জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আনা।
সংবাদ সম্মেলনে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে নির্বাচিত ১৪ জন সংসদ সদস্য ছাড়াও রংপুর জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।