রায়গঞ্জে ধানের পাতাপোড়া রোগ, ৮ বিঘা জমি আক্রান্ত
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে আমন ধানের জমিতে পাতাপোড়া রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সরাই হাজীপুর মৌজায় প্রায় ৮ বিঘা জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, আক্রান্ত জমির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।
শনিবার সরাই হাজীপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি জমির ধানগাছের পাতার আগা ও কিনারা হলদে-বাদামি হয়ে শুকিয়ে গেছে। দূর থেকে আক্রান্ত ক্ষেতগুলোকে অনেকটা পোড়া পাতার মতো দেখাচ্ছিল।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রথমে ধানের পাতার কিছু অংশ বিবর্ণ হয়ে যায়। পরে পাতার আগা ও প্রান্ত শুকাতে শুরু করে। কয়েক দিনের মধ্যে আক্রান্ত গাছের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় রোগটি আশপাশের জমিতে ছড়িয়ে পড়া এবং ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন তারা।
.png)
কৃষক আলামিন খান বলেন, ধানের গাছগুলো শুরুতে ভালোই ছিল। হঠাৎ পাতার আগা শুকাতে শুরু করে। পরে ধীরে ধীরে জমির বিভিন্ন অংশে একই সমস্যা দেখা দেয়। কীভাবে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করবেন, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত।
আরেক কৃষক মো. আবুল হাসেম বলেন, তার প্রায় চার বিঘা জমির ধানে এ রোগ দেখা দিয়েছে। সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ফলন কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের সহযোগিতা প্রয়োজন।
কৃষকরা জানান, আমন তাদের অন্যতম প্রধান ফসল। ধানের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জমিতে রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় উৎপাদন নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত রোগের কারণ শনাক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
চান্দাইকোনা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়নে প্রায় ৮ বিঘা জমিতে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ এবং জটিল হওয়ার আশঙ্কা নেই। কৃষকদের অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহারের কারণে এ ধরনের রোগ দেখা দিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তাকে দিয়ে আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করানো হয়েছে এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আসবে।
কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আক্রান্ত জমি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি কৃষকদের অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার না করার এবং কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।